বইমেলার শুরু থেকেই আছে মওলা ব্রাদার্স
রাশেদ শাওন || রাইজিংবিডি.কম
আহমেদ মাহমুদুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি : এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে মওলা ব্রাদার্স। চোখে পড়ার মতই তার সাজসজ্জা। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত বইয়ের তালিকাতেও আছেন দেশ বরেণ্য লেখক, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধকার। সব মিলিয়ে বনেদি এই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটি আজো ধরে রেখেছে তার সুনাম ও মর্যাদা। এবারে বইমেলা এবং মওলা ব্রাদার্স সম্পর্কে বলেছেন প্রকাশক আহমেদ মাহমুদুল হক।
বইমেলা, বইয়ের প্রচার ও পাঠকসৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে : আহমেদ মাহমুদুল হক
ফেব্রুয়ারি মাস ভাষা আন্দোলনের মাস, ফেব্রুয়ারি জুড়ে চলমান অমর একুশে বইমেলা শুধু বইমেলা নয়। এটি এখন লেখক-প্রকাশক-পাঠক-এর মিলনকেন্দ্র। এবং আমাদের সৃজনশীল ও মননশীল সাহিত্য প্রকাশেরও একটি মাস। এ-বছর এই প্রাণের মেলা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। ’৭১-এর ৭ই
পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে বর্তমান শিল্পকলা একাডেমি ভবনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে জাতীয় গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়। সেখানে মাওলা ব্রাদার্সসহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। সেই মেলায়ও মাওলা ব্রাদার্স-এর স্টল সাজ-সজ্জার জন্য পুরস্কার পায়। ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির চত্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাহিত্য সম্মেলনেও বই বিক্রির ব্যবস্থা ছিল। এইভাবে বইমেলার ভিত্তি তৈরি হয়ে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মনজুরে মওলার সময়ে বর্তমান মেলা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এই প্রসঙ্গে যাঁদেরকে স্মরণ করতে হয়, তারা হলেন জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক সরদার জয়েনউদ্দীন, মাওলা ব্রাদার্স-এর আহমেদ আতিকুল মাওলা, মুক্তধারার চিত্তরঞ্জন সাহা, বর্ণমিছিলের তাজুল ইসলাম, স্ট্যান্ডার্ড পাবলিশার্সের রুহুল আমিন নিজামী আহমদ পাবলিশিং হাউস-এর মহিউদ্দীন আহমদ, নওরোজ কিতাবিস্তান-এর শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মদ নাসির আলী ও আবদুল কাদির খান, খান ব্রাদার্স এন্ড কোম্পানির মোঃ মোসলেম খান, স্টুডেন্ট ওয়েজ-এর মোঃ হাবিবুল্লাহ, বই ঘরের শফি আহমেদ, প্রকাশ ভবনের আব্দুল হক, বুক সোসাইটির মোস্তফা কামাল।
প্রকাশনার উৎকর্ষতা ও নান্দনিকতায় যারা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তারা হলেন সন্ধানী প্রকাশনীর গাজী সাহাবুদ্দীন আহমেদ, মাওলা ব্রাদার্স-এর আহমেদ আতিকুল মাওলা ও বই ঘরের শফি আহমেদ। এঁদের মধ্যে সন্ধানী প্রকাশনীর শ্রদ্ধেয় গাজী সাহাবুদ্দীন আহমেদ জীবিত আছেন ও এখনো নিজে প্রকাশনা অব্যাহত রেখেছেন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ মিলে চলমান বইমেলায় ২৯৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছেন। সোহরাওয়াদী উদ্যানে রয়েছে ২৩২টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। বাংলা একাডেমির অভ্যন্তরে রয়েছে, শিশু-কিশোরদের বইয়ের প্রকাশক, সরকারি, মিডিয়া ও অন্যান্যসহ ৪৩টি প্রতিষ্ঠান। মাওলা ব্রাদার্স অন্যান্য বছরের মত এবারেও বিষয়বৈচিত্র্যকে প্রাধান্য দিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক বই প্রকাশ করছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান: প্রবন্ধ সংগ্রহ (১ম ও ২য় খণ্ড), বাংলাদেশের তারিখ (৩য় খণ্ড), কামরুল ইসলাম সিদ্দিক : গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের রূপকার, ড. জিল্লুর রহমান খান : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সম্মোহনী নেতৃত্ব ও স্বাধীনতা সংগ্রাম, ড. আবুল ফজল হক: বাংলাদেশ : রাজনৈতিক সংস্কৃতি, হাসান আজিজুল হক : উপন্যাসসমগ্র, সৈয়দ শামসুল হক : অনুপম দিন, সেলিম আলম দীন : নাটকসমগ্র ৩, হরিশংকর জলদাস: প্রতিদ্বন্দ্বী, শাহাদুজ্জামান : অন্য এক গল্পকারের গল্প নিয়ে গল্প, মোরশেদ শফিউল হাসান : একাত্তর, ড. মুনতাসির মামুন : ঢাকার স্মৃতি ১৪, ড. আবদুল ওয়াহাব সম্পাদিত: বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ: ইতিহাস ও তত্ত্ব, হাছন রাজা সংগীতসমগ্র, মুত্তালিব বিশ্বাস: সংগীত বিতর্ক, রণজিৎ বিশ্বাস: কথা মানুষের কথা মুক্তিযুদ্ধের, মহাদেব সাহা: ক্যালগেরির কাব্য, ড. ফজলুল হক তুহিন: আল-মাহমুদের কবিতা: বিষয় ও শিল্পরূপ, সিদ্দিকা কবীর: রান্না খাদ্য পুষ্টি।
এইবারের বইমেলাটি উৎসর্গ করা হয়েছে জাতির বিবেক, ভাষা সৈনিক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি, বাংলা একাডেমির ফেলো, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে।
আমি আশাবাদী, এবারেও পাঠক তার প্রিয় লেখক ও প্রয়োজনীয় বইটি বইমেলা থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবী মেলাকে সম্প্রসারিত করার, যা এবছর সম্ভব হয়েছে। আগামী বছর বইমেলা দুই জায়গায় না করে ঐতিহাসিক সোহরওয়ার্দী উদ্যানে মেলার আয়োজন করা, যেন পাঠক সকল প্রকাশককে একই জায়গায় পান এবং তাতে মেলার কার্যকারিতা অক্ষুন্ন থাকবে এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হবে ভবিষ্যৎ বইমেলার কেন্দ্রবিন্দু।
রাইজিংবিডি / রাশেদ শাওন
রাইজিংবিডি.কম
২১ বছর পর বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, অস্ট্রেলিয়াকে হারাল ৮৬ রানে