ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১১ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩৩ || ২৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নিহত কৃষকদল নেতার দাফন, জামায়তের ৩ কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

বাগেরহাট সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৩০, ১১ জুন ২০২৬   আপডেট: ০৮:৩৮, ১১ জুন ২০২৬
নিহত কৃষকদল নেতার দাফন, জামায়তের ৩ কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

বাগেরহাটের আড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিহত কৃষক দল নেতার জানাজা বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়।

দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে আড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

আরো পড়ুন:

কৃষক দল নেতার হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বুধবার দুপুরে বারুইপাড়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আরো পড়ুন: বাগেরহাটে দুর্বৃত্তের হামলায় কৃষকদল নেতা নিহত

সমাবেশে বক্তারা সরাসরি কাউকে হত্যাকারী না বললেও, এই হত্যাকাণ্ডকে ‘রাজনৈতিক ও আধিপত্যে’র জের বলে আখ্যা দিয়েছেন। সমাবেশ ও বিক্ষোভে ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দেও গুড়িয়ে দেও’, ‘খুনিদের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’, আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ এমন স্লোগান দিতে শোনা যায় বিএনপি নেতাকর্মীদের।

সমাবেশে বক্তব্য দেন- বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান শিমুল, বাগেরহাট জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তারিকুল ইসলাম, জেলা কৃষকদলের সভাপতি আসাফুদৌলা জুয়েল, বারুইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম মাসুদ।

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ লোকজন জামায়াত ইসলামের তিনটি স্থানীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বারুইপাড়া জামায়াত কার্যালয় ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন কার্যালয়ে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আর ভোরের দিকে আড়পাড়া গ্রামে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের কার্যালয় ভাঙচুর করে কিছু লোক।

জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ওই হামলার সঙ্গে জড়িত। তারা এলাকায় থাকা জামায়াতের নেতাকর্মীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

রারুইপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শেখ মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‍“বারুইপাড়া বাজারে আমাদের দুইটা অফিস। একটি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অফিস, আর একটি জামায়াতের। সোমবার দুপুর দেড়টা-দুইটার দিকে বিএনপির একদল নেতাকর্মী এসে ওই দুটি অফিসই ভেঙে তছনছ করে। হামলার আগে আমাদের অফিসের বিপরীতে থাকা একটি এজেন্ট ব্যাংকের সিসি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলেন তারা। আর গতরাতে বাদল ভাইকে হত্যার পর একদল লোক আড়পাড়ার জামায়াতের কার্যালয়টি ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে দেয়।”  

তিনি বলেন, “আমাদের উভয় দলের মাঝে রাজনৈতিক প্রতিযোগীতা আছে। কিন্তু এমন বড় কোন বিরোধ নেই। ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমরাও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার চাই। এই হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে এখন তারা আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে।”

অভিযোগের বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক বলেন, “রাতে সামান্য কিছু সমস্যা হয়েছে। বুধবার কোথাও কোনো ভাঙচুর বা সহিংসতা হয়নি। আমরা নেতাকর্মীদের কঠোরভাবে নির্দেষনা দিয়েছি, কেউ কোনো প্রকার আইন বিরোধী কাজ করতে পারবে না। আইন হাতে তুলে না নিতে নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেষ দেওয়া হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনবে।”

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা রেজাউল করিম। বিবৃতিতে তিনি বলেন, এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সব সন্ত্রাসীকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

জানতে চাইলে বাগেরহাট সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আরেফিন বলেন, “ভাঙচুরের কথা আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে।”

ফকিরহাট মডেল থানার ওসি শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। হত্যাকারীদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।”

ঢাকা/আমিনুল/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়