ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১১ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩৩ || ২৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০৪, ১১ জুন ২০২৬   আপডেট: ১২:০৬, ১১ জুন ২০২৬
অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য মানুষ অনেক উপায় অবলম্বণ করেন।  যেমন কেউ সকালে লেবু পানি পান করেন আবার কেউ কেউ রাতে দই খান। প্রশ্ন হচ্ছে, সকালে লেবু  পান করলে সত্যিই শরীর ‘ডিটক্স’ হয়? বা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে? গ্যাস্ট্রোলজিস্টদের মতামত জেনে নিন।  ভারতীয় চিকিৎসক ডা. বাতস্যার মতে, মানুষের শরীরের নিজস্ব একটি প্রাকৃতিক ডিটক্স ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে লিভার ও কিডনি সার্বক্ষণিকভাবে শরীর থেকে বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণের কাজ করে। তাই আলাদা করে লেবু পানি পান করলে শরীর ডিটক্স হয়—এমন দাবি সঠিক নয়।

প্রতিদিন মলত্যাগ না হলে কী কোষ্ঠকাঠিন্য?
ডা. বাতস্যা জানান, প্রত্যেক মানুষের মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস একরকম নয়। কেউ দিনে একাধিকবার মলত্যাগ করেন, আবার কেউ একদিন পরপর করেও সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতে পারেন।
অর্থাৎ, প্রতিদিন মলত্যাগ না হওয়া মানেই কোষ্ঠকাঠিন্য নয়।

খাবারের সময় পানি পান করলে কী হজম নষ্ট হয়?
একটি প্রচলিত ধারণা হলো, খাবারের সঙ্গে পানি পান করলে হজমের রস পাতলা হয়ে যায় এবং হজম ব্যাহত হয়। তবে ডা. বাতস্যা এই ধারণার সঙ্গে একমত নন। তার ভাষায়, স্বাভাবিক পরিমাণ পানি পান হজমের ক্ষতি করে না। বরং অতিরিক্ত খাওয়া এবং খুব দ্রুত খাওয়ার অভ্যাসই বিপাকক্রিয়া ও হজমের জন্য বেশি ক্ষতিকর।

ঝাল খাবার কী আলসারের কারণ?
অনেকে মনে করেন ঝাল খাবার খাওয়ার ফলেই পাকস্থলীর আলসার হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পুরোপুরি সত্য নয়। আলসারের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি সংক্রমণ এবং দীর্ঘদিন কিছু ব্যথানাশক ওষুধ, বিশেষ করে নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগস সেবন। যদিও ঝাল খাবার কিছু মানুষের উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে, তবে এটি সরাসরি আলসারের কারণ নয়।

রাতে দই খাওয়া বা ফ্যাটি লিভার নিয়ে ভুল ধারণা
ডা. বাতস্যা আরও বলেন, রাতে দই খাওয়া সবার জন্য ক্ষতিকর—এমন কোনো সার্বজনীন প্রমাণ নেই। এছাড়া অনেকেই মনে করেন, ফ্যাটি লিভার কেবল মদ্যপানকারীদেরই হয়। বাস্তবে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এখন অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে এবং ভারতে এটি অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভারের চেয়েও বেশি সাধারণ।

কোন পরিবর্তনকে স্বাভাবিক ধরা যায়?

  • দীর্ঘদিন ধরে মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন
  • অকারণে ওজন কমে যাওয়া
  • মলে রক্ত দেখা যাওয়া
  • দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা
  • খাবার গিলতে সমস্যা
  • দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া
  • এমন উপসর্গ যা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে

বিশেষ করে, একজন মানুষের স্বাভাবিক অভ্যাস থেকে হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন হলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস

ঢাকা/লিপি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়