ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১১ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩৩ || ২৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে মাছ ধরার ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা

পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:১৩, ১১ জুন ২০২৬  
মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে মাছ ধরার ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা

মাছ ধরতে সমুদ্রে যেতে ট্রলারে তেলের ড্রাম তুলছেন এক জেলে।

সমুদ্রে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর সরকারের আরোপিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ১২টায়। এ কারণে সাগর যাত্রার শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পটুয়াখালীর নিবন্ধিত প্রায় অর্ধলক্ষাধিক জেলে। জাল বুনন থেকে শুরু করে ট্রলার ধুয়ে মুছে পরিস্কার করার পাশাপাশি আনুসঙ্গিক সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন তারা। অনেক জেলে আগে ভাগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অবস্থান নিয়েছেন সমুদ্রের মোহনায়। 

আরো পড়ুন:

এদিকে, অবরোকালীন সময় কিছু অসাধু জেলে সমুদ্রে মাছ শিকার এবং অবৈধ ট্রলিং ট্রলারের দৌরাত্ম্যে বিপুল পরিমাণে ছোট মাছ ও রেনুপোনা ধ্বংস হওয়ায় আশানুরুপ মাছ না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন অনেকে। আগামীতে নিষেধাজ্ঞার সময় সাগরে প্রশাসনের টহল জোরদারের পাশাপাশি ট্রলিং ট্রলার বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাছ ধরতে সাগরে যেতে প্রস্তুত পটুয়াখালীর ট্রলার


মহিপুরের ‘এফবি ভাই ভাই ট্রলার’-এর মাঝি সামসু বেপারী বলেন, “এবছর কুয়াকাটার খুুটা জালের জেলে ও বাঁধা জালের জেলেরা একেবারেই নিষেধাজ্ঞা মানেনি। তারা শুরু থেকেই অবাধে মাছ শিকার করেছে এবং তা বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেছে। প্রশাসনও ছিল অনেকটা নীরব ভূমিকায়। আমাদের জানামতে কুয়াকাটা, পাথরঘাটা ও ভোলার বেশ কিছু ট্রলিং ট্রলার গভীর সাগরে মাছ শিকার করেছে। ফলে সরকারের মাছের প্রজননের যে পদক্ষেপ তা ভেস্তে গেছে।” 

তিনি বলেন, “সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে ট্রলিং ট্রলার। এসব ট্রলারের জেলেরা ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহারে মাধ্যমে রেনুপোনাসহ জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস করছে। বছরজুড়ে তারা সামুদ্রিক মাছের ক্ষতি করছে। এবছর আমরা সাগরে গিয়ে মাছ পাই কিনা সেটি নিয়ে সবাই শঙ্কায় রয়েছি।” 

ট্রলারে জাল তুলছেন জেলেরা


একই এলাকার অপর মাঝি আলআমিন বলেন, “আমাদের মহিপুর ও আলীপুরের কিছু ফিসিং ট্রলার অবরোধ পালন করেছে। কুয়াকাটার খুটা জেলে এবং অন্যান্য মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের কোনো জেলে অবরোধ পালন করেনি। আমরা বিগত বছরগুলোর মতো এবারো মাছ পাব কিনা সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছি। ধার দেনায় জর্জরিত না থাকলে সাগরেই যেতাম না।”

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “এ উপজেলায় ১৮ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। আমরা নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকেই অরবোধ সফল করার লক্ষ্যে জেলেদের নিয়ে সভা সমাবেশ করেছি। নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে আমরা ৩০ টির বেশি অভিযান চালিয়েছি এবং ৫০ হাজার টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে।”

ঢাকা/ইমরান/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়