Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২০ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৪ ১৪২৮ ||  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কৃষিকে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদা দেয়ার দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:৪৭, ১১ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ২৩:৫০, ১১ আগস্ট ২০২১
কৃষিকে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদা দেয়ার দাবি

কৃষিতে যুবদের আগ্রহী করে তোলার জন্য কৃষিকে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভবে মর্যাদা দেয়ার এবং কৃষিশিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক কৃষি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়ার প্রস্তাব করেছেন তারা।

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে বারসিক ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)’র যৌথ উদ্যোগে আজ বুধবার (১১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ‘খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর ও তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা’ শীর্ষক এক অনলাইন নাগরিক সংলাপে উপরোক্ত দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

অনলাইন নাগরিক সংলাপে প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান বলেন, ‘কৃষিতে তরুণদের আগ্রহ তৈরির জন্য কৃষিকে প্রথমেই পারিবারিকভাবে মর্যাদা দিতে হবে। কৃষিকে আমরা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মর্যাদা দিই না। কৃষক পরিবারের সন্তানরা কখনও চান না তার সন্তান কৃষক হোক। তাই কৃষিকে মর্যাদা দেওয়ার কাজ পরিবার থেকে শুরু করতে হবে। আমাদের সবার কল্যাণে কৃষির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তরুণদের কাছে তুলে ধরতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরে যুবদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য কৃষিকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবেও মর্যাদা দিতে হবে এবং কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করতে হবে। কৃষি খাতকে যদি পরিবারিক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদা দেওয়া হয় তাহলে তরুণরাও কৃষিতে আগ্রহী হবে। কৃষির বিভিন্ন পর্যায়ে যেমন উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সার তৈরি থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত তরুণরা যদি সম্পৃক্ত থাকে তাহলে এ খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তারা ভূমিকা রাখতে পারে। এই খাতে যুবদের আগ্রহী তোলার ক্ষেত্রে সরকারকে ভাবতে হবে, স্বল্পসুদে ঋণ দিতে পারে, প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কৃষককে প্রণোদনা দিতে হবে এবং কৃষিপণ্যের ক্ষতি যাতে না হয় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।’ 

আব্দুস সোবহান বলেন, ‘শুধু চাকুরির পিছনে না ঘুরে যুবকদেরকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত হতে হবে। বাংলাদেশে এক তৃতীয়াংশ হচ্ছে যুব সমাজ। তারা সবাই কর্মক্ষম। তাদের কাজে লাগাতে। তাদেরেক আমরা যদি কাজ লাগাতে পারি তাহলে অবশ্যই আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে পারবো এবং খাদ্য রূপান্তরে তারা ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে।’

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, ‘কৃষিতে যুবকদের সম্পৃক্ত বাড়াতে হবে। কৃষিকে লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে কৃষকের জন্য পেনশন স্কিম চালু করতে হবে যাতে তরুণরা এই খাতকে সন্মান করে। এছাড়া শুধু খাদ্য উৎপাদনের দিকে নয় বরং কীভাবে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করা যায় সেদিকেও নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে তরুণরা এগিয়ে আসতে পারে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য তাদেরকে নানানভাবে প্রচার-প্রচারণা করতে হবে।’

অনলাইন এই নাগরিক সংলাপে বাংলাদেশের নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, মানিকগঞ্জ, রাজশাহী এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭৫ জন তরুণ, তরুণী, এনজিও কর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং বারসিক’র বিভিন্ন এলাকার কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো- 
১. আমাদের সমাজে কৃষি পেশাকে এখনো সম্মানের চোখে দেখা না, তাই তরুণ কৃষি পেশায় যেতে অনাগ্রহ দেখায়। তরুণদের কৃষি পেশাকে বিশেষ সুবিধা ও মর্যাদা দিতে তরুণদের জন্য জাতীয় ও স্থানীয় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি পদক এর ব্যবস্থা করতে হবে।

২. নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও তৈরীতে যেসকল উপকরণ দরকার যেমন ভার্মী কম্পোস্ট, জৈব বালাইনাসক, জৈবসার তৈরী ইত্যাদিতে তরুণদের কারিগড়ি জ্ঞান দক্ষতা বাড়াতে তাদের সহযোগীতা বাড়াতে হবে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং কৃষি উৎপাদনের জন্য তাদের সহজ শর্তে ঋনের সুবিধা আর্থিক সুবিধার ব্যববস্থা করতে হবে।

৩. উৎপাদিত নিরাপদ খাদ্য বাজারজাতকরণ ও পরিবেশন ও পরিবহনে এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট স্থান/দোকানের ব্যবস্থা রাখা। ইউনিয়ন পর্যায়ে শস্য সংরক্ষাণাগার তৈরী করতে হবে।

৪. জাতীয় বাজেটে যুবদের কৃষি কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য আলাদা ভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে।

৫. নিরাপদ খাদ্য আইনের বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করতে হবে। প্রতিটি বাড়িকে পুষ্টিাবাড়ি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কৃষিপণ্যের অনিশ্চিত ন্যায্যবাজার রুখতে হবে।

৬. ২০১৮ সনের জাতীয় কৃষিনীতিতে‘‘কৃষিতে যুবশক্তি’’ শিরোনামে একটি বিশেষ অধ্যায় (ধারা-১৪) যুক্ত করা হয়েছে । যা বাস্তবায়নে সরকারী সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রয়োজনে অঞ্চল ভিত্তিক জাতীয় তরুণ কৃষি নীতি চালু করতে হবে।

৭. গ্রাম ও শহরের যুবদের জন্য বিদ্যমান নাগরিক সুবিধার যে বিরাট বৈষম্য রয়েছে তা কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

হাসান/আমিনুল

সর্বশেষ