Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২১ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ৯ ১৪২৮ ||  ০৯ জিলক্বদ ১৪৪২

বঙ্গবন্ধুর লেখা সময়ের দলিল

আবু বকর ইয়ামিন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ১৭ মার্চ ২০২১  
বঙ্গবন্ধুর লেখা সময়ের দলিল

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বব্যাপী একজন মুক্তিসংগ্রামী এবং মহান রাজনীতিবিদ হিসেবে সমধিক পরিচিত। রাজনৈতিক সত্তাই বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় পরিচয়। এ মহান স্থপতির একটি বক্তৃতা থেকেই তাঁকে রাজনীতির কবি আখ্যায়িত করে নিউজউইক ম্যাগাজিন।

শুধু রাজনীতিই নয়, রাজনীতির পাশাপাশি অবসরে লিখে গেছেন কিছু অবিস্মরণীয় বই। যেগুলো জাতির ব্যক্তিজীবন, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের এক অনন্য শিক্ষা।

২০১২ সালে প্রকাশিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখা সেরা একটি বই। যেন তার ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন বিষয় বর্ণিত হয়েছে। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত কারারুদ্ধ অবস্থায় তিনি এটি লিখেন।

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পঠিত গ্রন্থগুলোর একটি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া তথ্যমতে, বাংলার বাইরেও ইংরেজি, উর্দু, স্পেনিশ, জার্মান, চায়না, জাপানিসসহ ১৪টি ভাষায় বইটি অনূদিত হয়েছে। আরও বহু ভাষাতে অনুবাদের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরল প্রাঞ্জল ভাষায় নির্মোহভাবে ঘটনাবলির বর্ণনা থাকার কারণে, সময়ের ঐতিহাসিক বিবরণ থাকার কারণে পাঠক তরতর করে এগিয়ে যেতে পারেন। পাঠে আসে না কোনো বিরক্তি।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী ছাড়াও ‘কারাগারের রোজনামাচা’ (২০১৭) এবং ‘আমার দেখা নয়াচীন’ (২০২০) প্রকাশের পর জাতির জনককে একজন সুনীপুণ লেখক হিসেবে চিনে নেয়ারও সুযোগ হয়েছে বিশ্ববাসীর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজবন্দী হিসেবে কারাগারে থাকার সময়ই এ বইগুলো রচনা করেন। তিনটি বই-ই সুখপাঠ্য ও তথ্যসমৃদ্ধ। নিত্য আধুনিক এ তিনটি বই। এখানে একদিকে ব্যক্তি হিসেবে শেখ মুজিবের চিন্তার মগ্নতা গভীরভাবে রূপায়িত হয়েছে, অন্যদিকে নিজের রাজনৈতিক জীবন তখনকার সময়ের পটভূমিতে চমৎকারভাবে তিনি উঠিয়ে এনেছেন।

পাশাপাশি চোখ রেখেছেন জগতের নানা দিকে। খুঁটিনাটি নানা বৃত্তান্ত এবং নিজের অনুভবের সারাৎসারে তার প্রতিটি বই হয়ে উঠেছে অনন্য।এই বইগুলোতে কেবল একজন রাজনীতিকের দৃষ্টিভঙ্গিই নয়, একজন লেখকের দায়বোধও ফুটে উঠেছে এতে।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখার পটভূমিতে বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেছেন 'কিছুই তো করতে পারলাম না। শুধু এইটুকুই বলতে পারি, নীতি ও আদর্শের জন্য সামান্য একটু ত্যাগ স্বীকার করতে চেষ্টা করেছি।' পাশাপাশি এই বইয়ের অনেক পৃষ্ঠায় প্রকৃতির বর্ণনা আছে। তাঁর টুঙ্গিপাড়ার শৈশব–কৈশোরের জীবন এই প্রকৃতির মধ্যে বেড়ে উঠেছে। বোধ করি এ কারণেই প্রকৃতির বর্ণনা তাঁর রচনার একটি বড় দিক।

অসমাপ্ত আত্মজীবনীজুড়েই আছে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ। এক জায়গায় লিখেছেন, 'আমি নিজে কমিউনিস্ট নই। তবে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বিশ্বাস করি না। একে আমি শোষণের যন্ত্র হিসেবে মনে করি। এই পুঁজিপতি সৃষ্টির অর্থনীতি যত দিন দুনিয়ায় থাকবে, তত দিন দুনিয়ার মানুষের ওপর থেকে শোষণ বন্ধ হতে পারে না।' এখানে নিজের জীবনদর্শনের এমন অনেক প্রসঙ্গ আছে, যা একজন ব্যক্তিকে বোঝা সহজ করে দেয়। এভাবে বাঙালির মানসচেতনায় সময়ের দলিল হয়ে উঠেছে তাঁর লেখা।

ইয়ামিন/সাইফ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়