ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৬ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে হাজারো শ্রমিকের সড়ক পারাপার

আরিফুল ইসলাম সাব্বির : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৯ ২:১২:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-১৯ ৫:৫৭:০১ পিএম

সাভার সংবাদদাতা: সড়ক দুর্ঘটনার কারণে ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। গত কয়েক মাসে সড়কে প্রাণ হারানোদের মধ্যে বেশিরভাগই্ ছিলো ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক পারাপার। শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ার বেশিরভাগ এলাকায়ই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হন গার্মেন্টস শ্রমিক ও  শিক্ষার্থীরা। এতে করে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করছেন তারা।

সাধারণ পথচারীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ওভারব্রিজ ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় বেপরোয়া বাসচালকদের কাছে এমন আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে। তবে এমন অভিযোগ নাকচ করে পথচারীদের অসচেতনতাকেই দুষছেন কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মাঝে সাভার, আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, উলাইল, গেন্ডা, থানা স্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি, সিএন্ডবি, বিশমাইল এলাকায় প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই সড়ক পার হচ্ছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা।

সড়ক-মহাসড়কের উঁচু আইল্যান্ড টপকে অথবা দল বেঁধে শ্রমিকরা সড়ক পার হয়ে থাকেন। অনেক সময় দেখা যায়, ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন কেউ কেউ। এছাড়া আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের জিরানি, শ্রীপুর, বলিভদ্র, ইপিজেড, বাইপাইল, পল্লী বিদ্যুৎ, নবীনগর এবং টঙ্গী-আশুলিয়া সড়কেও শ্রমকিদের পারাপারের এই দৃশ্য দেখা যায়।

গত এপ্রিল, মে ও জুনসহ সর্বশেষ তিন মাসের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকার মহাসড়ক-শাখা সড়কে সংঘটিত ২৮টি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ২৬ জন। আহত হয়েছেন প্রায় ৬৭ জন। আর ৪টি দুর্ঘটনায় নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এসব দুর্ঘটনায় ৪১ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে শ্রমিকরা জানান, অনেক সময় ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের কর্মস্থলে যেতে দেরি হয়ে যায়। পরিশ্রমও করতে হয়। সারাদিন কাজ করে ওভারব্রিজের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে অনেক ক্লান্ত লাগে তাদের। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার বিষয়ে অধিকাংশ মানুষই বলেন, সহজে একটু দ্রুত পার হওয়া যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা প্রায় প্রতিদিনই আইল্যান্ড টপকে ও সড়কের মাঝ দিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন। এছাড়া বেশিরভাগ কারখানার সামনে কোনো ফুটওভারব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং ও সড়কের পাশ দিয়ে ফুটপাত না থাকায় চলাচলে কষ্ট হয় তাদের মত লাখো শ্রমিকদের।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকর্মী সিয়াম সারোয়ার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সাভার আশুলিয়া মূলত শ্রমিক প্রধান এলাকা। এখানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণও হারান তারাই বেশি। এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ তাদের অসচেতনতা। তবে, সারাদিন কাজের পরে উঁচু উঁচু ফুটওভার ব্রিজ পার হওয়াও বেশ পরিশ্রমের। ফলে এসব এলাকায় যদি চলন্ত সিঁড়িওয়ালা ওভারব্রিজ করা যায়, শ্রমিকরা আরো আকৃষ্ট হবে।’

তিনি বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজগুলোর উচ্চতা বেশি হওয়ায়, এগুলোর নোংরা পরিবেশ, হকার, ভিক্ষুক ও মাদকসেবীদের দখলে থাকায় তারা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন না। এ ছাড়াও সন্ধ্যার পর ওভারব্রিজে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে এবং বখাটে যুবকরা আড্ডা জমায়। ফলে নারীরা এটি ব্যবহারে অনীহা দেখান।’

এ বিষয়ে কথা হয় সাভার ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) আবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে জানান, ডিইপিজেড সংলগ্ন এলাকায় হাজারো শ্রমিকের বসবাস হওয়ায় উঁচু আইল্যান্ড টপকে ও সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত এই এলাকার হাজারো পথচারী ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে পারাপার হচ্ছেন। ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতিতেই ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করে এভাবে অনেককে পার হতে দেখা যায়। ফলে মাঝে মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা ঘটে। আর জনবহুল হওয়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জনসচেতনতার মাধ্যমে এটি রোধ করা সম্ভব বলে জানান এই কর্মকর্তা।

সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার বন্ধে নানা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ঢাকা জেলা সড়ক ও জনপদের প্রকৌশলী আতিক জানান, সড়কে নিরাপত্তার জন্য আইল্যান্ড নির্মাণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু পথচারীরা সামান্য কষ্টের কারণে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রায় এক ফুট উঁচু এই আইল্যান্ড টপকে সড়ক পার হচ্ছেন। যদিও বাইপাইল ও ডিইপিজেড এলাকায় সড়কের উপর নির্মিত এই আইল্যান্ডটি সর্বোচ্চ উচ্চতার। তাই এর উপর গ্রিল দেওয়াও সম্ভব নয়।

তিনি আরো জানান, পথচারীদের অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষার্থে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে র‌্যালি ও সমাবেশ করা হয়ে থাকে। জনগণকে রাস্তা পারাপারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের প্রচারণা চালানো হয় এসব অনুষ্ঠান থেকেই।


রাইজিংবিডি/সাভার/১৯ জুলাই ২০১৯/আরিফুল ইসলাম সাব্বির/হাকিম মাহি

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : ঢাকা, ঢাকা বিভাগ