ঢাকা, রবিবার, ২২ চৈত্র ১৪২৬, ০৫ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কলাগাছের শহীদ মিনারেই শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২২ ১০:১৬:৩২ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২২ ১০:১৬:৩২ এএম

অজপাড়াগাঁয়ের বিদ্যালয়ে ইট-পাথরের শহীদ মিনার নেই। তাই নিজ হাতে গড়া কলাগাছের প্রতীকী শহীদ মিনার বানানো হয়েছে।

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেই শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ১২৯ নম্বর পোস্টকামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার সকালে নিজেদের তৈরি কলা গাছের এই শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তারা। এর আগে বৃহস্পতিবার দিনভর ওই বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তৈরি করেন এ শহীদ মিনার।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যন্ত এ অঞ্চলে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ১২৯ নম্বর পোস্টকামরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরপর ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয় বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টির দুটি ভবনের একটি জরাজীর্ণ। এদিকে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার এত বছরেও নির্মাণ করা হয়নি কোনো শহীদ মিনার।

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে কোন শহীদ মিনার নেই বলে তারা জাতীয় দিবসগুলোতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে না। এজন্য নিজেরাই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কলা গাছে কাগজ মুড়িয়ে প্রতীকী শহীদ মিনার তৈরি করেছে।

পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মামুদুল হাসান, আয়শা আক্তার, ইব্রাহিম মিয়া জানায়, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারা সবাই শহীদ মিনারে ফুল দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু তাদের বিদ্যালয়ে যেহেতু শহীদ মিনার নেই, তাই তারা কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে কলা গাছের এ শহীদ মিনার বানিয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ডলি রানী মণ্ডল বলেন, ‘শহীদ মিনার মূলত একটা প্রতীক মাত্র। তাই ইটের হোক আর কলা গাছেরই হোক, শ্রদ্ধা নিবেদনটাই মূখ্য। এটা করতে পেরে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অনেক তৃপ্ত হয়েছে বলে আমরা লক্ষ্য করেছি

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভা রানী ঘোষ জানান, সরকারি অনুদান না পাওয়ায় অবকাঠামোসহ শহীদ মিনার তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা নিজেরাই কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়েছে।

এ ব্যাপারে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, অচিরেই উপজেলার যে সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই সেখানে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

টাঙ্গাইল/সিফাত/বুলাকী

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : টাঙ্গাইল, ঢাকা বিভাগ