ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭ ||  ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

risingbd-august-banner-970x90

‘সাত দিন চিড়া আর মুড়ি খাইয়া আছি’

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৩:১৭, ১৩ জুলাই ২০২০  

ঘরে হাঁটু পানি। চাল-ডাল কিছুই নাই। কিলা (কীভাবে) খাইতাম, কিলা বাচঁতাম। কাম (কাজ) করতে পারলে খাই আর না করতে পারলে উপাস থাকন লাগে। করোনায় কাম কাজ বন্ধ। বাচ্চা-খাচ্চা নিয়ে ঘরে থাকার মতো অবস্থা নেই। কেউ একটু সাহায্য করে না। সাত দিন ধরে চিড়া আর মুড়ি খাইয়া আছি।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা সাহারা খাতুন এ কথাগুলো বলেন।তিনি দিনমজুর রুবেল মিয়ার স্ত্রী। সংসারে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

সাহারা খাতুন বলেন, ‘কেউ যদি সাহায্য সহযোগিতা করোইন তাইলে বাঁচতাম নাইলে বাঁচতাম না। না খেয়ে মরতে হবে।’

রুবেল মিয়া বলেন, ‘আগে প্রতিদিন কাজ করে যা আয় হতো তা দিয়ে খাইতাম। কিন্তু করোনা আসার পর থেকে তাও বন্ধ। একবেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে জীবন কাটিয়েছি। কিন্তু এখন বন্যা এসে আমারে অসহায় করে ফেলছে। বউ বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। পানির জন্য ঘর থেকে বের হতেও পারছি না।’

একই অবস্থা রাধানগর, বড়ঘাট, লালপুর এলাকার বাসিন্দাদের।

রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা দিলারা বেগম বলেন, ‘ঘরের মধ্যে হাটু পানি। চুলাতেও পানি। আগুন ধরানো যাচ্ছে না। একদিকে করোনা আরেকদিকে বন্যা। আমার স্বামী অসুস্থ, ছেলেরা কাজ করতে পারছে না। সংসারে নয়জন লোক। কেউ সাহায্য না করলে না খেয়ে মরতে হবে।’

গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ফুল মিয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ বাড়িতে পানি উঠেছে। আমরা তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছি। শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘বন্যার্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলার ১১ উপজেলায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তবে দু’দফা বন্যায় সুনামগঞ্জের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এজন্য ১১ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের যত বেশি সম্ভব আশ্রয় কেন্দ্র খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।’

গত ২৮ ও ২৯ জুন ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বেড়ে জেলার ১১টি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ওই পানি নামতে না নামতেই ১০ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফা বন‌্যা শুরু হওয়ায় নতুন করে জেলা সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ উপজেলার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছে জেলার লক্ষাধিক মানুষ। 

 

সুনামগঞ্জ/ইভা

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়