ঢাকা     শনিবার   ১৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ৩১ ১৪২৭ ||  ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

বগুড়া-১ আসনে ভোটের আমেজ নেই

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:৪৩, ১৩ জুলাই ২০২০  
বগুড়া-১ আসনে ভোটের আমেজ নেই

বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে উপ নির্বাচনের ভোট আগামীকাল (১৪ জুলাই)।  কিন্তু বন্যা আর করোনা পরিস্থিতির কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে মোটেও ভোটের আমেজ নেই।

এ আসনের দুটি উপজেলাই বন্যা কবলিত।  দুই উপজেলার ২৫টি গ্রামে এখনও বন্যার পানি।  আর অর্ধেক ভোট কেন্দ্রই চরাঞ্চলে।  কিছু ভোট কেন্দ্রের চারদিকেই পানি।

তারপরও এ নির্বাচন নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় নির্বাচন করতে হচ্ছে।  এতে করোনায় কেউ মারা গেলে নির্বাচন কমিশন দায়ী না।

নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশ মানুষ নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।  নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়ে জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ এর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিএনপি'র প্রার্থী একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির।   সেই সাথে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাও দেন  তিনি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন পরিবেশ নেই উল্লেখ করে ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বগুড়া-১ আসনে উপনির্বাচনের পরিবেশ নেই।  নির্বাচনী এলাকায় করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং বন্যার কারণে ভোট কেন্দ্রসহ নির্বাচনী এলাকার বিরাট অংশ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী  প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান বলছেন অন্য কথা।  তিনি বলছেন এখানে একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে এই দুঃসময়ে তা জনগণেরই উপকার হবে।

বগুড়া স্বাস্থ্য বিভাগের এক তথ্যে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত বগুড়ার সোনাতলা-সারিয়াকান্দিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৬৫ জন।  উপসর্গ নিয়েও মারা গেছেন বেশ কয়েকজন।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, করোনা সংক্রমণের এমন পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা এবং ভোট গ্রহণে কারণে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। 

একটি সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রশাসনের বেশিরভাগ কর্মকর্তারা দেশের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উপ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিপক্ষে।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের বেশ কয়েজন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনী এলাকায় একদিকে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের ভয়, অন্যদিকে বন্যা- সব মিলিয়ে উপ নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা ভয়াবহ সময় পার করছেন। ভোট দেয়ার মত মনমানসিকতা ও পরিবেশ কোনটাই তাদের মধ্যে কাজ করছে না এখন।

চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে তার ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।  ভাঙনের কবলে পড়ে ইতোমধ্যে চার শতাধিক বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বহুলাডাঙা কমিউনিটি ক্লিনিক, আাউচারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাকালিহাতা জামে মসজিদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মাহবুব আলম শাহ্ জানান, ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।  ১২৪টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৩০ হাজার ৮৯২ জন।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জানুয়ারি সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে এই আসনটি শূন্য হয়।

 

আলমগীর/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়