ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কয়লা সংকটে হিলির কামার পল্লীতে উদ্বেগ

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৭:১৩, ১৬ জুলাই ২০২০  

কোরবানির ঈদ কাছেই। তাই কামার পল্লীতেও বেড়েছে কাজের ব‌্যবস্তা। নতুন নতুন দা-ছুরি-বটির পাশপাশি কুরবানির পশু কাটাকাটিতে ব‌্যবহৃত পুরাতন ছুরি-বটি মেরামতের কাজও চলছে দিন-রাত।

তবে হিলির কামার পাড়ায় খুশির চেয়ে উদ্বেগই যেনো যায়গা দখল করেছে। কয়লা সংকট আর লোহা-ইস্পাতের ‍মূল্য বৃদ্ধিকেই এ উদ্বেগের জন‌্য দায়ী করছেন কামারেরা।

কামার তারাপদ জানান, কয়লার সংকট আর লোহা-ইস্পাতের দাম বৃদ্ধির কারণে কাজ করে লাভ হচ্ছে না। আগে হোটেল, বাসা-বাড়ি থেকে কয়লা সংগ্রহ করা হতো। এখন হোটেল বা বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কয়লা পাওয়া তাই দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে ইটের ভাটাগুলোতেও গ্যাস এবং কয়লা ব্যবহার হচ্ছে। আগে কাঠ বা খড়ি দিয়ে ভাটায় ইট পোড়ানো হতো। এজন‌্য কয়লা সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান তারাপদ।

মিজান কামার জানান, কয়লা স্বল্পতার কারণে বেশি দামে কয়লা কিনতে হচ্ছে। গত বছর এক টিন কয়লা ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এবার তা কিনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে।

হিলি বাজারের গোডাউন মোড়ের কামার শ্রী কৃষ্ণ কর্মকার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার কোরবানির ঈদে মানুষ বেশি অর্ডার দিচ্ছে। কিন্তু কয়লা সংকটের কারণে সমস‌্যা হচ্ছে। আগের মতো হোটেল, বাসা-বাড়ি বা ইট ভাটায় কয়লা মিলছে না। এছাড়া কাঁচা লোহা প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। তাই কোরবানির সরঞ্জাম স্বাভাবিকভাবেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

ছুরি-বটি ব্যবসায়ী শ্রী দিপু মহন্ত রাইজিবিডিকে বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার কোরবানির সরঞ্জামের দাম অনেক বেশি। মাংস কাটা দা আমরা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দামে বিক্রি করছি, যা আগে ছিলো ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। বড় চাকু ছিলো ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা এখন তার দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। বটি ছিলো ১৩০ টাকা, এখন বিক্রি করছি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। হাসুয়া ছিলো ৮০ থেকে ১০০ টাকা তা বর্তমানে তা ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছি।’

লুৎফর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘এবছর দা, বটি, চাকুর দাম অনেক বেশি। কোরবানির পশু কিনেছি। তাই দাম বেশি হলেও সরঞ্জাম কিনতে হবে। হয়তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমে আসবে।’


হিলি (দিনাজপুর)/সনি

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়