Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১৯ এপ্রিল ২০২১ ||  বৈশাখ ৬ ১৪২৮ ||  ০৬ রমজান ১৪৪২

জারা লেবুর হালি ২০০ টাকা, করোনায় প্রবাসী ক্রেতা কম

আব্দুল্লাহ আল নোমান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৫৫, ১৮ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
জারা লেবুর হালি ২০০ টাকা, করোনায় প্রবাসী ক্রেতা কম

সিলেট অঞ্চলের লেবু জারা। একেকটি বড় জারা লেবুর ওজন এক থেকে দেড় কেজি, এক হালি লেবুর দাম ২০০ টাকা। এই লেবুর রস কম বলে খোসা খাওয়া হয়, যেটির কদর দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। ইউরোপে জারা রপ্তানিও হলেও এবার ক্রেতা কম, তবুও ঈদের জন‌্য ভাল বিক্রির প্রত‌্যাশা করছেন লেবু চাষি ও ব‌্যবসায়ীরা।

সিলেটে মাটি ও আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ অঞ্চলে বেশীরভাগ জারা লেবু উৎপাদন হয়। শুধুমাত্র জেলার জৈন্তাপুর উপজেলায়ই প্রায় শতাধিক জারা লেবুর বাগান রয়েছে। পাশাপাশি পাশ্ববর্তী গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট উপজেলায়ও জারা লেবুর চাষ হয়। চাষ হয়ে থাকে গোলাপগঞ্জ এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার টিলাবেষ্টিত এলাকাগুলোতেও।

এখন জারা লেবুর ভরা মৌসুম। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বড় বড় লেবু। দামও বেশ চড়া। সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতি ও রোববার লেবুর পাইকারি হাট বসে জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল বাজারে। এখান থেকেই লেবু সংগ্রহ করে শহরে নিয়ে যান পাইকাররা। আবার অনেকেই সরাসরি বাগান থেকেও কিনে থাকেন লেবু। বাজারে আকার ভেদে একেকটি জারা লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকায়।

জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেহপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকায় চাষ হয় জারা লেবু। এমনই একটি গ্রাম বাগেরখাল। ওই গ্রামের একজন কৃষক জব্বার। তিনি বলছিলেন, কয়েক পুরষ ধরে তারা লেবু চাষ করে আসছেন। শুরুর দিকে নিজেদের খাবার জন্যই এই লেবু চাষ করা হতো। এখন তারাও চাষ করেন। তবে এ থেকে তারা অর্থ উপার্জন করছেন। প্রতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকার লেবু বিক্রি করে থাকেন বলেও জানালেন তিনি।

গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর বাংলাবাজার গ্রামের চাষি মিসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘এ বছর জারার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তারা কয়েক ধাপে লেবু বিক্রি করতে পারছি। এ পর্যন্ত দুই ধাপে প্রায় ৫০ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেছি। ঈদ সামনে রেখে ভালো মানের জারার দাম আরও কিছুটা বাড়বে।’

কানাইঘাট উপজেলার সুরইঘাটের লেবু চাষি শাহরিয়ার মাহমুদ বলছিলেন, তার বাগানে কয়েকটি জারা লেবুর গাছ রয়েছে। পরিণত একেকটি গাছে সহস্রাধিক লেবু ধরে থাকে। এ বছর লেবুর ফলন ভালো হয়েছে। তারা পাইকারি প্রতিপিস সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন বলেও জানান।

কানাইঘাট উপজেলার চতুল বাজারে কথা হয় লেবু ব্যবসায়ী সেলিম মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ‘জৈন্তাপুরের চারিকাটা ইউনিয়নে কয়েকটি লেবু বাগান রয়েছে। সেখান থেকে লেবু সংগ্রহ করি। তারপর খুচরা দরে লেবু বিক্রি করি। বাজারে এখন জারা লেবুর বেশ চাহিদা রয়েছে।’

নগরীর লালবাজারের লেবু বিক্রেতা সাহেদ জানান, জারা লেবুর চাহিদা বেশি রয়েছে। দামও বেশি পাচ্ছেন তারা। তারা মূলত পাইকারি কিনে খুচরা দরে তা বিক্রি করে থাকেন। তাদের বেশিরভাগ ক্রেতাই প্রবাসী। যারা অগ্রিম অর্ডার করে লেবু সংগ্রহও করে থাকেন। তবে করোনার কারণে এ বছর প্রবাসী ক্রেতা একদম নেই। অবশ্য লন্ডনের কিছু ক্রেতা তাদের কাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করেছেন বলেও জানান তিনি।

সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলের আবহাওয়া লেবুজাতীয় ফল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আর এ অঞ্চলের কমলা ও লেবুর খ্যাতি সারাদেশেই রয়েছে। এ কারণে লেবু জাতীয় ফল চাষে নতুন চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মজুমদার মো. ইলিয়াস। এজন্য কৃষিবিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


নোমান/সাজেদ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়