গাইবান্ধায় থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের মারধর, গ্রেপ্তার ১
গাইবান্ধা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ফাইল ফটো
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সারোয়ার আলম খান এ তথ্য জানান।
পুলিশ সূত্র জানায়, হামলার ঘটনায় পলাশবাড়ী থানার এএসআই রুহুল আমিন ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছেন।
এদিকে, এ ঘটনায় দলীয় কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সিসিটিভির ভিডিও দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম কানন নামের যুব জামায়াতের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) এবিএম রশিদুল বারী সাংবাদিকদের জানান, পলাশবাড়ী যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় প্রবেশ করেন। তারা থানার ওসি সারোয়ারে আলমকে পলাশবাড়ী পৌরসভার কালিবাজারে বিবাদমান একটি দোকানে তালাবদ্ধ করতে বলেন।ওসি দোকানে তালা দিতে রাজি না হলে পলাশ ও তার লোকজন পুলিশের ওপর চড়াও হয়। নিয়ে উভয় পক্ষের মাঝে তর্ক হয়। তর্কের এক পর্যায়ে তারা ওসির গায়ে হাত তোলে। পরে ওসিকে বাঁচাতে অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গেলে তারাও আহত হন।
তিনি আরো জানান, আহত পুলিশ সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ সোহাগ জানান, “বুধবার রাতে এএসআই রুহুল আমিন ও শাহ আলমসহ সাতজন পুলিশ সদস্য আহত অবস্থায় এসেছিলেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”
পলাশবাড়ী থানায় কর্মরত এএসআই রুহুল আমিন জানান, পুলিশের ওপর আক্রমণ করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তদের আটকাতে গেলে হামলার শিকার হন। এসময় তারা পুলিশকে মারধর করে বলে দাবী করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে পলাশবাড়ী যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “খবর পেয়ে জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু থানায় যান। অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।”
তিনি জানান, এ ঘটনায় তাদের কোনো কর্মী জড়িত আছে কিনা থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হবে। জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
ঢাকা/মাসুম/মাসুদ