ঢাকা     সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৩ ১৪২৭ ||  ১০ সফর ১৪৪২

জেল জরিমানাতেও থামছে না মানিকগঞ্জে পোনা মাছ নিধন

হাসান ফয়জী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ১৫ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
জেল জরিমানাতেও থামছে না মানিকগঞ্জে পোনা মাছ নিধন

মানিকগঞ্জে বন্যায় জেলার সাত উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার পুকুর বন্যার পানিতে ডুবে হাজার হাজার টন মাছ ও পোনা মাছ ভেসে গেছে। এতে মাছ ও পোনা মাছ নিধনের হিড়িক পড়েছে। বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল দিয়ে দিন রাত এসব মাছ ধরা ও বিক্রি চলছে। প্রশাসন জেল, জরিমান ও অবৈধ জাল জব্দ এবং এসবের কারখানা সিলগালা করেও রোধ করা যাচ্ছে না অবৈধ মাছ শিকার।

জুলাই মাসের শুরুতেই মানিকগঞ্জে বন্যা শুরু হয়। বন্যার পর থেকেই জেলার মানুষ বড়শি, কারেন্ট, রাক্ষুসে, ধর্ম, ধুর, চাই, ভেহালসহ বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে মাছ শিকারের হিড়িক পড়ে। বন্যায় হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়লে এ মাছ ধরার প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পায়।

মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সর্বশেষ বন্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এবারের বন্যায় জেলায় ৪ হাজার ৯১৬টি মৎস্য খামার বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পুকুর থেকে ২ হাজার ১৬৪ দশমিক ১০ মেট্রিক টন মাছ এবং ৩৭৮ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন পোনা ভেসে গেছে।

সকাল হলেই জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে নিষিদ্ধ মাছ (৯ ইঞ্চির ছোট আকারের) ছোট রুই, কাতল ও মৃগেল মাছ বিক্রি করছেন জেলেসহ মৌসুমী মাছ শিকারীরা।

জেলার ঘিওর উপজেলায় গত ৬ আগস্ট বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পুটিয়াজানী গ্রামে কারেন্ট (রাক্ষোস) জালে জড়িয়ে আবির (৮) নামের এক শিশু নিহত হয়েছেন।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার বলেন, ‘আমার উপজেলায় অবৈধ জালে জড়িয়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর আমরা ১০ আগস্ট চায়না চাই জাল তৈরির কারখানা সিলগালা করি। এর দুই দিন পর ১২ আগস্ট ঘিওর বাজারে অভিযান পরিচালনা করে কারেন্ট জাল বিক্রির সময় হাতেনাতে ছয়জনকে ৫ হাজার টাকা করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করি। এসময় বেশ কিছু কারেন্ট জালও পুড়িয়ে ফেলা হয়।’


মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘করোনার সময় এ অঞ্চলের কর্মহীন মানুষেরা দিন রাত ঘুড়ি ওড়াতেন। আর বন্যার পর দেখছি, প্রায় মানুষই মাছ শিকারে ব্যাস্ত। কিন্তু অবৈধ পোনা মাছ নিধনও করছে বিভিন্নভাবে। পোনা মাছ সংরক্ষণের জন্য আমি গত ১১ আগস্ট মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেউথা আড়ৎ ও নয়াকান্দি বাজারে অভিযান চালিয়ে রুই, কাতল ও মৃগেল পোনা মাছ (৯ ইঞ্চির ছোট) বিক্রির দায়ে দুই মাছ বিক্রেতাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছি। এসময় ১৪৫ কেজি মাছ জব্দ করে এতিম খানায় বিতরণ করছি।’

শিবালয় উপজেলা সিনিয়র সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘অন্যান্য উপজেলার মত শিবালয়ে অবৈধ জাল দিয়ে অবৈধ মাছ শিকার করছেন হাজার হাজার মানুষ। এর প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন ও থানার সহায়তায় আমরা ১২ ই আগস্ট রাত থেকে ১৩ ই আগস্ট সকাল পযন্ত শিবালয়ের সাহেলী চক এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজন জেলেকে জরিমানা করেছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক লোক বলেন, ‘করোনার পর আবার আসল বন্য। এসময় জেলার হাজার হাজার মানুষের কোন কাজ নেই। তাই কেউ মাছ খাওয়ার জন্য, কেউ নেশায় পড়ে, কেউ পেটের দায়ে মাছ ধরছেন, বিক্রি করছেন। কী করব বলেন, কিছু একটা করে খেতে হবেতো। ঘরে বসেই বা কয়দিন থাকা যায়?’
মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. মুনিরুজ্জমান বলেন, জেলায় বন্যায় মৎস্য খামারিদের ৪২ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। জেল ও জরিমানার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

মানিকগঞ্জ/সাজেদ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়