RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭ ||  ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

বগুড়ার সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ

এনাম আহমেদ, বগুড়া || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪৩, ২৩ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৫:১০, ২৪ অক্টোবর ২০২০

চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বগুড়ার বেশিরভাগ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার নেই এসব সড়কে। খোদ জেলা সদরসহ ১২ উপজেলার আঞ্চলিক অনেক সড়কের বেহালদশায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্থানীয় লোকজন। 

বেহালদশার সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- বগুড়া থেকে চন্দন বাইশা এবং মাটিডালি থেকে পীরগাছা সড়ক। সড়ক দুটির প্রায় পুরোটাজুড়ে বড় বড় গর্তে ভরা। কোথাও কোথাও সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ ভেঙে গেছে। একটু অসাবধানতায় সেখানে দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে। আবার কোথাও এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, ভারী যানবাহনের চাকা দেবে গেলে উঠাতে কয়েকঘণ্টা ধরে বেগ পেতে হচ্ছে। 

বগুড়া-চন্দন বাইশা সড়কের মালিকানা বগুড়া পৌরসভা, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। বগুড়া শহরের চেলোপাড়া থেকে সারিয়াকান্দি উপজেলার কড়িতলা পর্যন্ত সড়কটি বগুড়া-চন্দন বাইশা সড়ক নামে পরিচিত। এই সড়কের দূরত্ব প্রায় ২৪ কিলোমিটার। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মালবাহী ভ্যান, অটোরিকশাসহ বহু যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন সড়কটির বেহালদশা হলেও সংস্কারে এগিয়ে আসেনি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা তিন বিভাগের কোনোটি। ফলে পূর্ব বগুড়ার সারিয়াকান্দি, গাবতলী ও ধুনট উপজেলার লক্ষাধিক মানুষকে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে উৎকণ্ঠা এবং সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে হয়। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বগুড়া শহরের নারুলীর কৈপাড়া থেকে সড়কটির বেহালদশা শুরু। ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে কার্পেটিং উঠে গেছে। ফলে বর্ষাকালে অধিকাংশ সময় সড়কে পানি জমে থেকেছে। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকরা দুই চাকার এবং তিন চাকার যানগুলো মাঝে-মধ্যে উল্টো গেছে। গত কয়েকদিন বৃষ্টি না থাকায় পানি শুকিয়ে গেছে। তবে খানাখন্দের কারণে ঝাকুনির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে।

নারুলী কৈপাড়া এলাকার মুদি দোকানি ফজলু ইসলাম বলেন, একটু বৃষ্টি হলে চেলোপাড়া কাজিরবাড়ী মোড় থেকে কৈপাড়া পর্যন্ত সড়কে পানি জমে। সড়কের দুইপাশ ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। অনেকস্থানে ভাঙতে ভাঙতে সড়ক অর্ধেক হয়ে গেছে। পৌরসভা থেকে দেড় মাস আগে এখানে ইট ফেলে চলাচলের উপযোগী করলেও তা বেশিদিন টেকসই হয়নি। 

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুস্তম আলী বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটির এই অংশের অবস্থা খারাপ হয়েছে। বাইপাস থেকে কাজীরবাড়ী মোড় পর্যন্ত সড়ক মেরামতের জন্য সম্প্রতি ২২ লাখ টাকার টেন্ডার হয়েছে। আগামী মাসে কাজ শুরু হতে পারে। সড়কের পাশ দিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্যও গত ১২ অক্টোবর একটি টেন্ডার হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গাবতলী উপজেলার সারটিয়া, লাঠিগঞ্জ, পাঁচ মাইল, মহিষাবান এলাকার অসংখ্যস্থানে সড়কের মাঝখানে এবং পাশ দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। যার ফলে প্রায়ই গর্তের ভেতর ভারী যানবাহনের চাকা আটকে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

গাবতলীর লাঠিগঞ্জ ইউনিয়নের রাণীরপাড়া গ্রামের আপেল মাহমুদ বলেন, সড়কের গোলাবাড়ী বন্দর অংশে কার্পেটিং উঠে খানাখন্দের সৃষ্টির হয়েছে। ব্যস্ততম সড়ক দিয়ে ছোট-বড় গাড়ি, অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান যাতায়াত করে। সেগুলো দুর্ঘটনায় পড়ার পাশাপাশি সড়কে যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। 

ঢাকা/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়