RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১০ ১৪২৭ ||  ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিচিত্র পেশায় সংসার সচল রেখেছেন মেহেরপুরের রোকেয়া খাতুন

মহাসিন আলী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১৯, ১ নভেম্বর ২০২০  
বিচিত্র পেশায় সংসার সচল রেখেছেন মেহেরপুরের রোকেয়া খাতুন

বিচিত্র পেশার ওপর ভর করে সংসার সচল রেখেছেন মেহেরপুর শহরের নতুনপাড়ার অসুস্থ আবু হোসেনের স্ত্রী রোকেয়া খাতুন (৬৩)।

যে বয়সে একটু বিশ্রামে থাকার কথা, সে বয়সেও বাড়িতে বাড়িতে ছুটছেন গরুর ভুড়ি বিক্রি করতে। এ কাজ না করলে স্বামীর ওষুধ কেনাসহ ৫ সদস্যের সংসারে ভাত-কাপড় জুটবে না, তাই বাধ্য হয়েই দুই দশক ধরে এ পেশাটিতেই আঁকড়ে আছেন।

গরুর ভুড়ি বিক্রি করতে করতে পাড়া-মহল্লায়ও রোকেয়া খালা হিসাবে তিনি অতি পরিচিত। রোকেয়া খাতুনের ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে। বড় ছেলে ইমাদুল আইসক্রিম বিক্রেতা ও মেঝ ছেলে মহিবুল ইটভাঙা গাড়ির লেবার। একমাত্র মেয়ে শাহিদাকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট ছেলে শহিদুল মারা গেছেন। বড় ছেলে ও মেঝ ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন।

সংসারের চাকা ঘোরাতে রোকেয়া খাতুন প্রায় দুই দশক আগে থেকে গরুর ভূড়ি কিনে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে পাড়া মহল্লায় বিক্রি শুরু করেন। সেই থেকে পেশাটিতে আজো আটকে আছেন। গরুর ভুড়ি কিনে নিজেই পরিস্কার করেন। বর্তমানে তার প্রতিদিন ভুড়ি বেচে চার-পাঁচশ টাকা লাভ হয় বলে জানান তিনি।

একসময় লাভের টাকা ও স্বামীর রিকশা চালানোর আয় ও ছোট ছেলের আয় দিয়ে ৬ সদস্যের সংসার খুব ভালোভাবেই চলতো রোকেয়া খাতুনের। কিন্তু ছোট শহিদুল ১০ বছর আগে মারা গেছেন। রেখে গেছেন স্ত্রী এবং ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। প্রায় দেড় দশক অসুস্থ হয়ে স্বামী বিছানায়। স্বামীর আয়রোজগার নেই। বরং তাদের ২ জনের জন্য প্রতিদিন ২শ টাকার ওষুধ কিনতে হয়। এ অবস্থায় ৫ সদস্যের সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে বলে জানান রোকেয়া খাতুন। 

তিনি বলেন, এ বয়সে বয়স্ক ভাতা পেলে অনেক সহায় হতো। এজন্য তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু লাভ হয়নি।

মেহেরপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর জাহাঙ্গীর বলেন, রোকেয়া খাতুন বয়স্ক ভাতার জন্য আমাকে একাধিকবার বলেছেন। সরকারি বিধি মোতাবেক উনার বয়স ৬২ বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুযায়ী তার বয়স ৬৩ বছর চলছে। শিগগিরই তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া হবে।

এদিকে মেহেরপুর শহর সমাজসেবা অফিসার কবীর মাহমুদ জানান, বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার জন্য জনপ্রতিনিধি দ্বারস্থ না হয়ে সমাজসেবার নির্ধারিত ফরম পূরণ করে সবশেষে নিজ এলাকার কাউন্সিলরের প্রতিস্বাক্ষর কিংবা সুপারিশ নিয়ে জমা দিলেই বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতা পাওয়া সম্ভব।

মেহেরপুর/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়