Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ০৬ মার্চ ২০২১ ||  ফাল্গুন ২১ ১৪২৭ ||  ২১ রজব ১৪৪২

সতীনকে জেতাতে নির্বাচনি প্রচারণা

বগুড়া প্রতি‌নি‌ধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৯, ২০ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১১:১০, ২০ জানুয়ারি ২০২১
সতীনকে জেতাতে নির্বাচনি প্রচারণা

ঘ‌রে একটি সতীন মা‌নেই শত্রুতা, হাড়ি নিয়ে হিংসা‌, ঝগড়াঝাটি, ‍চুলোচুলি। সেখানে বগুড়ার শিবগঞ্জের বন তেঘরী গ্রামের চার সতীনের ঘরের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। তারা চার সতীন মানে আপন চার বোন। একে অপরের পরিপূরক।  এভাবেই ঘরের ভেতর এবং ঘরের বাইরে একাত্মা হয়ে চলা ফেরা করছেন শিবগঞ্জ নারী আসনের ২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাজেদা বেগম এবং তার তিন সতীন।

৩০ জানুয়ারি শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মাজেদার স্বামী আব্দুস সামাদ, সতীন মিনু বেগম এবং রেনু বেগমও মা‌জেদাকে জেতা‌তে ভোটার‌দের দ্বা‌রে দ্বা‌রে ঘুর‌ছেন। নির্বাচনি প্রচারণায় স্বামীসহ তিন সতীন একত্রে প্রচারণায় নামায় ভোটারদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। তিন সতীন একত্রে নির্বাচনি প্রচারণা করছেন এমন দৃশ্য দেখার জন্য স্থানীয় লোকজন তাদের কাছে ভিড় করছেন।

তবে এমন ঘটনা এবারই নতুন নয় গত পৌর নির্বাচ‌নেও তারা মা‌জেদা বেগম‌কে জেতা‌তে মা‌ঠে এভা‌বেই কাজ ক‌রে‌ছেন। তা‌দের আ‌রেক সতীন রায়েনা বেগম সরকা‌রি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় তি‌নি সরাস‌রি মা‌ঠে প্রচারণা কর‌তে পার‌ছেন না।

জানা গে‌ছে, মা‌জেদা বেগ‌মের স্বামীর বাড়ী উপজেলার বন তেঘরী গ্রামে। তার স্বামী উপজেলার চাপাচিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ। স্বামীর সংসারে তার আরও তিনজন সতীন রয়েছেন। এর ম‌ধ্যে রেনু বেগম এবং মিনু বেগম গৃ‌হিনী।  আ‌রেক সতীন রায়েনা বেগম সরকা‌রি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। যে কারণে তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে পারছেন না। তবে তিনি বরাবরই পূর্ণ সমর্থন দিয়ে আসছেন। এবারও তার পূর্ণ সমর্থন আছে। তিনি টাকা পয়সা দিয়ে মাজেদাকে সহযোগিতা করছেন। মা‌জেদা বেগম প্রথমবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ ক‌রে ১৩ ভোটে হেরে যান। প‌রের বার অংশ নি‌য়ে জয়ী হন। এই নির্বাচ‌নেও তিনি শিবগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড থে‌কে অংশগ্রহণ কর‌বেন। মা‌জেদা বেগম আনারস প্রতীক নি‌য়ে নির্বাচন কর‌ছেন। তার  সা‌থে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চশমা প্রতীক মিনারা বেগম ও জবাফুল নিয়ে মিনেরা বেগম।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, মাজেদা বেগম তার স্বামীসহ আরও দুই সতীনকে নিয়ে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এটি অনেক কৌতুহল এবং আলাদা রকম উৎসাহ যোগাচ্ছে। কারণ একজন সতীন থাকলেই বাড়িতে অশান্তির সৃষ্টি হয়। সেখানে তারা চারজন সতীন। তাদের মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব বিভেদ দেখছি না। অন্য সতীনরা মাজেদা বেগমকে জেতাতে দিনরাত আমাদের কাছে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন।

মাজেদা বেগ‌মের সতীন মিনু বেগম ও রেনু বেগমের সঙ্গে যোগ‌া‌যোগ কর‌লে তারা জানান, আমরা সতীন হ‌লেও বোনের মতো থাকি। আমাদের আলাদা আলাদা হাড়ি। আমরা চেষ্টা ক‌রি মি‌লে‌মি‌শে নিজের বোনের মতো থাকার। আমরা সংসা‌রের ঝা‌মেলা সংসা‌রেই সীমাবদ্ধ রে‌খে‌ছি।  আমরা গত দুবার মা‌জেদা বেগ‌মের জন‌্য মা‌ঠে নে‌মে‌ছি। এবারও নে‌মে‌ছি। আনারস মার্কা আবারও উ‌ঠে আস‌বে এমনটাই প্রত্যাশা ক‌রছি।

মাজেদা বেগমের স্বামী আব্দুস সামাদ জানান, চার স্ত্রী নিয়ে তিনি সুখী। তারা চারজন আপন বোনের মতো থাকে। তারা সব সমস্যাকে মিলেমিশে মানিয়ে নিতে পারে। তিন সতীন এক সঙ্গে মাঠে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছে এটা ভোটারদের জন্য অনেক কৌতুহলের। প্রচারণায় বের হলে ভোটাররা তাদের দেখতে ভিড় করে।

মাজেদা বেগম জানান, সতীন মানেই শত্রু মনে করা হয়। আমাদের ক্ষেত্রে কিন্তু এমনটা মোটেই না। আমরা অতি আপনজন। নির্বাচিত হতে পারলে নারী নির্যাতন এবং বাল্য বিবাহ বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কথা জানান তিনি।

এনাম/বুলাকী

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়