Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১২ ১৪২৮ ||  ১৭ সফর ১৪৪৩

ক্ষুধার্তের পাশে ‘জন্মভূমি ক্লাব’

ফরাজী মো. ইমরান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৭, ২২ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ২৩:০০, ২২ এপ্রিল ২০২১

দিনে দুই বেলা খাবার  নিয়ে  ক্ষুধার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে  কুয়াকাটার ‘জন্মভূমি ক্লাব’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তবে, এই খাবার দেওয়া হচ্ছে কেবল ‘মানসিক ভারসাম‌্যহীন’দের মাঝে। এছাড়া ‘অভুক্ত  কুকুর’কেও  সংগঠনের পক্ষ থেকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। সংগঠনের সদস্যদের নিজেদের চাঁদার টাকায় তৈরি হচ্ছে এসব খাবার।  

তবে, সরকারি কিংবা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাদের এ কার্যক্রম বছরব্যাপী চালু রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। 

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী মহামারি করোনার বিস্তার ঠেকাতে পয়লা এপ্রিল থেকে কুয়াকাটার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ। এতে চরম বিপাকে পড়েছে কুয়াকাটা সৈকতে থাকা অর্ধশতাধিক ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’। তাদের দুর্দশার কথা ভেবে দিনে দুবেলা খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জন্মভূমি ক্লাবের সভাপতি কেএম বাচ্চু। 

ক্লাবের ৩০ সদস্যের প্রত্যেককে সপ্তায় একশ’ টাকা করে চাঁদা নির্ধারণ করে শুরু হয় তাদের এই কার্যক্রম। প্রতিদিন সকাল দশটায় শুরু হয় রান্নার কাজ। ক্লাবের সদস্যরা নিজেরাই রান্না করে তৈরি করেন খাবার প্যাকেট। 

পরে মোটরসাইকেল, ভ্যানে বা হেঁটে দুপরে ও রাতে সৈকতের পশ্চিমে এক কিলোমিটার এবং পূর্ব পাশের এক কিলোমিটার এলাকাঘুরে এসব খাবার বিতরণ করেন। এ সময় শতাধিক ‘অভুক্ত কুকুর’কেও খাবার দেন তারা। 

জন্মভূমি ক্লাবের সদস্য আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, ‘ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীনদের খাবার দিতে পেরে আমরা মানসিক তৃপ্তি পাই। তবে এটা ব্যয়বহুল। তাই বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছি।’ 

অন‌্য সদস্য মিজান বলেন, ‘প্রতিদিন সৈকতে ঘুরে ঘুরে আমরা এসব খাবার বিতরণ করি। মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে আমরা গর্বিত।’

জন্মভূমি ক্লাবের সভাপকি কেএম বাচ্চু বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে একবার এবং বিকালে একবার রান্না করতে হয়। আমাদের ক্লাবের সদস্যরাই রান্না করে। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। সরকারি কিংবা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে বছরব্যাপী এ কাজ চালু রাখা সম্ভব।’ 

কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম রাকিবুল আহসান জানান, এমন মানবিক কর্মকাণ্ড সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সংগঠনটিকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।

কলাপাড়া (পটুয়াখালী)/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়