Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১৪ ১৪২৮ ||  ১৯ সফর ১৪৪৩

সাগরে যেতে প্রস্তুত জেলেরা

তারেকুর রহমান, কক্সবাজার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫৫, ২৩ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৮:২৪, ২৩ জুলাই ২০২১

আজ ২৩ জুলাই মধ্য রাতে শেষ হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা।  শনিবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে আবার জেলেরা ট্রলার নিয়ে ছুটবেন গভীর সাগরে। জেলে-পাইকার-আড়তদারের পদচারণে মুখর হয়ে উঠবে মৎস্যবন্দরগুলো। এরই মধ্যে সাগরযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছেন জেলেরা।

মৎস্য সংশ্লিষ্টরা জানান, সাগরে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় কক্সবাজারের অনেক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এবং বরফকল ২ মাসের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া কয়েক হাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। জেলেরা জানান, তালিকার বাইরে থাকা কয়েক হাজার জেলে সরকারি কোনো সহযোগিতা পায়নি।

স্থানীয় জেলে মোহাম্মদ কবির রাইজিংবিডিকে বলেন, ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় সাগরে যেতে পারিনি। অবশেষে নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে। সাগরে যেতে পারবো বলে খুশি লাগছে।

আরেক জেলে মো. রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন নৌকা স্থলে পড়ে থাকায় ভাঙন ধরেছে।  সেগুলো মেরামত করে সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।

নৌকা মিস্ত্রী আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি ১২ বছর ধরে নৌকা মেরামতের কাজ করে আসছি।  দীর্ঘদিন ধরে নৌকা বন্ধ থাকায় অনেক নৌকা ভেঙে গেছে। সেগুলো মেরামত করার জন্য মালিকরা আমাকে নিয়ে আসছে।  ঘাটের অনেক নৌকার কাজ করতে হচ্ছে আমাকে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম খালেকুজ্জামান রাইজিংবিডিকে বলেন, ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের প্রজননকাল উপলক্ষে সাগর ও নদী মোহনায় মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার।  তা  ২৩ জুলাই শেষ হচ্ছে। এই সময়ে দেশের সামুদ্রিক জলসীমানায় সব ধরনের মৎস্য আহরণ, পরিবহণ ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মাছের প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

খালেকুজ্জামান বলেন, সাগরে যেতে না পারায় কক্সবাজারে ৬৩ হাজার ১৯৩ জন জেলের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী জেলার ৮ উপজেলায় তা বিতরণ করা হয়।

সাগরে মাছের প্রাচুর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২০১৯ সাল থেকে প্রথমবারের মতো ছোট নৌকাগুলোকেও ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসে। যদিও বা ইলিশের প্রজননকাল উপলক্ষে ছোট ট্রলারগুলো ২০১১ সাল থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।  যেটি অক্টোবর মাসে এখনও কার্যকর রয়েছে।  তবে ২০১৫ সাল থেকে কেবল বড় বড় বাণিজ্যিক ট্রলারগুলোর জন্যই এ নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।

তারেকুর/সাইফ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ