Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৮ ||  ১৬ সফর ১৪৪৩

৫ কিলোমিটার ভাঙা সড়কে চরম দুর্ভোগ

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১৩, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  
৫ কিলোমিটার ভাঙা সড়কে চরম দুর্ভোগ

পাবনার ফরিদপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হলো সোনাহারা-গোপালনগর সড়ক।  গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বর্ষা মৌসুম আসলেই সড়কটি হয়ে ওঠে চলাচলের অনুপযোগী। ফলে প্রায় সময় সেখানে ঘটে চলেছে ছোটবড় দুর্ঘটনা।

পাঁচ কিলোমিটার সড়কটি মেরামতে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।  

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরিদপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক হলো সোনাহারা-গোপালনগর সড়ক। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এই সড়কে প্রতিদিন অন্তত ২০টি গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। অসংখ্য খানাখন্দে ভরপুর সড়কটির কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

একটু বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে হাঁটু পানি জমে যায়। জরুরী কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে গেলে পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে।

সোনাহারা-গোপালনগর সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং মালবাহী নছিমন, করিমন, ভুটভুটি, মিনি ট্রাক চলাচল করে।  
সড়কটি মেরামত না হলে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।  তাদের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর ধরে এমন ভোগান্তি চললেও প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

সোনাহারা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন বলেন, ‘এ রাস্তা মেরামতের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বারবার বলা হলেও তারা কর্ণপাত করছেন না। ফলে ভোগান্তি চলছে বছরের পর বছর।’

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ‘ভাঙাচোরা রাস্তা। একটুখানি বৃষ্টি হলে কাদা দেখে কান্না আসে। জোরে বৃষ্টি হলে তো গর্তগুলো পানিতে ডুবে সমুদ্র হয়ে যায়। ’

আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘হাসপাতালে কোনো রোগীকে নেয়ার প্রয়োজন হলে কি পরিমাণ কষ্ট হয় তা বলে বোঝানো যাবে না।’

স্থানীয় অটোরিকশা চালক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সড়কটির পিচ পাথর উঠে যাওয়ায় গাড়ি চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। চলাচলের অযোগ্য এ সড়কে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।  মাঝেমধ্যেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মাওলা বলেন, ‘আমি খুব হতাশ এ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি নির্মাণ না হওয়ার জন্য।  উপজেলা পরিষদের সভায় অনেকবার বলেছি। কাজ হয়নি। ’

ফরিদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম হোসেন পোলাপ বলেন, ‘ইতিমধ্যে রাস্তাটি মেরামতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে মেরামত করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তার দুই পাশের জায়গা দখল মুক্ত করে পরিপূর্ণভাবে রাস্তা নির্মাণের জন্য এলজিইডি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার হয়েছে।’

ফরিদপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. বাকিবিল্লাহ বলেন, ‘রাস্তাটির প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। ইতিমধ্যে সেটি পাশও হয়েছে।  বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই টেন্ডার দিয়ে কাজ শুরু করা হবে।’

শাহীন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়