Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১০ ১৪২৮ ||  ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বেনাপোলে রাজস্ব ভবনে ফাটল, ঝুঁকিতে ব্যবহারকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১৩, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১  
বেনাপোলে রাজস্ব ভবনে ফাটল, ঝুঁকিতে ব্যবহারকারীরা

১৯৯৫ সালের ২৬ জানুয়ারি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয় দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের। কিন্তু ২৬ বছরেই স্থলবন্দরের প্রধান রাজস্ব ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।  

পাঁচ বছর ধরে বাঁশ, কাঠের গুঁড়ি দিয়ে ভবনের ছাদের ধস রক্ষার চেষ্টা করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির জীর্ণ দশা হলেও পরিত্যক্ত ঘোষণা বা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই।  

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ভবনটিতে অফিস করছেন বন্দর, কাস্টমস, নিরাপত্তা সংস্থা পিমা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বা তাদের প্রতিনিধিরা। ভবনটির বয়স মাত্র ২৬ বছর হলেও এর দ্বিতীয় তলায় একটি ইউনিটে বড় ফাটল ধরেছে। এতে বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় তলার ওই অংশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক প্যাজেনজার টারমিনালে নিয়ে যান।

তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির কর্মকর্তারা ওই ভবনটিকে অবস্থান করেন। তিন তলা ভবনটির দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ার শঙ্কায় ইতিমধ্যে বাঁশ ও কাঠের গুঁড়ি ও লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর যে ইউনিটটি ব্যবহার হচ্ছে, সেটিও জরাজীর্ণ।  ছাদ থেকে বালি ঝরে পড়ছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে ভবনে চলা ফেরা করতে হচ্ছে। যে কোনো সময় ভবন ধসে মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘ভবনটিতে বন্দর, কাস্টমস, নিরাপত্তা সংস্থার অফিস রয়েছে। সেখানে সবসময় কয়েকশ’ মানুষ বাণিজ্যিক কাজে অবস্থান করেন।  এমন একটি ভবন বাঁশ, কাঠের গুঁড়ি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করে বাণিজ্যিক কার্য সম্পাদন করা দুঃখজনক।  দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক মানুষের জীবনহানি হতে পারে।’

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, ‘এ বন্দর থেকে সরকার বছরে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে।  অথচ এর রাজস্ব আদায়ের প্রধান বাণিজ্যিক ভবনটি জরাজীর্ণ।  আতঙ্কের মধ্যে ভবনে প্রবেশ করে কাজ করতে হয়।  দুর্ঘটনা এড়াতে ভবনটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

ইন্দো-বাংলা চেম্বার অফ কমার্স সাব কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘শুরু থেকে বন্দরের দুর্বল অবকাঠামো নিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ রয়েছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে বন্দরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে না নেওয়া হলে কখনই অবকাঠামোর কাঙ্খিত উন্নয়ন হবে না।’

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, ভবনটির দ্বিতীয় তলার একটি ইউনিট ঝুঁকিপূর্ণ।  সেখানে যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে সে কারণে তালা মেরে রাখা হয়েছে।  ভবনটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

রিটন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়