ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১১ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৯ ||  ১২ মহরম ১৪৪৪

কক্সবাজারে সাগরে ডলফিনের নাচ

তারেকুর রহমান, কক্সবাজার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫০, ১৩ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ২১:৫২, ১৩ নভেম্বর ২০২১
কক্সবাজারে সাগরে ডলফিনের নাচ

দেশে শীতের শুরুতে কক্সবাজার সমুদ্রে ডলফিন দলবেঁধে খেলায় মেতেছে। সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্টের মাঝামাঝি অদূর সমুদ্রে কয়েকটি ডলফিনকে খেলা করতে দেখা গেছে। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণে লকডাউন সময়ের যখন সমুদ্রসৈকতে লোক সমাগম বন্ধ ছিলো,  তখন ডলফিনের নাচ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার শীতের শুরুতে অদূর সমুদ্রে দল বেঁধে দাপাদাপি করছে ডলফিনগুলো। 

শুক্রবার (১২ নভেম্বর) ও শনিবার (১৩ নভেম্বর) ভোরে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্টের অদূর সমুদ্রে ডলফিনের নাচ দেখেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা জানান, ভোরের কুয়াশা ছেদ করে যখন সূর্য রশ্মি সাগরের নীল জলে পড়ে, তখন লোকজনের আনাগোনা কম থাকায় ডলফিনগুলো তীরের কাছে এসে আপন মনে খেলা করেছে। কখনও দু’-একটা, আবার কখনও দলবেঁধে সাগরজলে খেলায় মেতে ওঠে এই স্তন্যপায়ী প্রাণিগুলো।

সমুদ্রে জেটস্কিচালক সোনামিয়া বলেন, ‘শুক্রবার সকালে যখন জেটস্কি রাউড করে একটু দূরে যাই, তখন ডলফিনের পাল দেখে প্রায় ১৩ মিনিট ধরে তাদের নাচের দৃশ্য ধারণ করি। সাধারণত শীত মৌসুমে ডলফিনগুলো মাছ শিকারের জন্য সাগরের কিনারায় চলে আসে।’ 

স্থানীয় জেলেরা বলেন, গত বছর লকডাউনের সময় সমুদ্রসৈকতে কিছু ডলফিনকে খেলা করতে দেখা যায়। এরপর উধাও হয়ে যায় সেগুলো। গত দুই দিন সমুদ্রসৈকতের কাছে ডলফিনের বিচরণ দেখা গেলো।

সমিতিপাড়ার জমির হোছাইন মাঝি বলেন, ‘যখন মাছ শিকারে গভীর সমুদ্রে যাই, তখন সেখানে ডলফিন দেখি। শীতের শুরুতে সাগরের ছোট ও মাঝারি ধরণের মাছগুলো সাগরের কিনারায় চলে আসে, সেই মাছগুলো শিকার করতে মূলত ডলফিন গভীর সমুদ্র থেকে কূলের খুব কাছে চলে আসে।’ 

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘ডলফিন পরিষ্কার ও স্বচ্ছ পানিতে বিচরণ করতে ভালোবাসে। শীতকালে সাগরের ঢেউ তেমন বড় হয় না। সাগর শান্ত থাকে। তাই দলবেঁধে খেলা করার জন্য এই স্তন্যপায়ী প্রাণিগুলো সমুদ্রের কিনারায় চলে আসে। এদের বহু জাতের মধ্যে শুশুক জাতের ডলফিনগুলো নিকট সমুদ্রে দেখা যায়।’ 

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বায়োলজিক্যাল ওশানোগ্রাফি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘কক্সবাজারের সোনাদিয়া ও মহেশখালীর বঙ্গোপসাগর চ্যানেলে দুটি ডলফিন পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। একেকটি পরিবারে ১০-১২টির বেশি ডলফিন থাকে। সাগরে মূলত তারা দলবেঁধে চলাফেরা করে। বর্তমানে চ্যানেলগুলোতে প্রতিনিয়ত তাদের দেখা মেলে। যেহেতু নিরিবিলি স্থান পছন্দ করে, সেহেতু সাগরের জনমানবহীন নীরবতার সুযোগে লাবণী পয়েন্টে চলে এসেছে ডলফিনগুলো।’

/বকুল/ 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়