ঢাকা     সোমবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৩ ১৪২৮ ||  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

হবিগঞ্জে চা বাগান বন্ধ, শ্রমিক পরিবারে খাদ্য সংকট 

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১৭, ১৫ জানুয়ারি ২০২২  
হবিগঞ্জে চা বাগান বন্ধ, শ্রমিক পরিবারে খাদ্য সংকট 

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৩৮ দিন বন্ধ থাকা বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের কর্মহীন শ্রমিক পরিবারে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বাগানের অনুমতি ছাড়া এক শ্রমিকের ঘর নির্মাণ কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে বাগান ব্যবস্থাপককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ বাগান বন্ধ ঘোষণা করে।  

বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চা পাতা উত্তোলনসহ কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। বেকার হয়ে পড়ে ৪০০ অধিক নিয়মিত শ্রমিক। সমস্যা সমাধানের জন্য মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন, শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিরা একাধিকবার বৈঠক করেও সমাধানে পৌঁছতে পারেনি।

বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের শ্রমিক নেতা ও ইউপি সদস্য বাবুল চৌহান জানান, চা বাগানে কাজ করা একজন শ্রমিক ১১৮ টাকা হাজিরা ও আধা সের আটা দিয়ে পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। নিয়মিত শ্রমিকদের বাগানের কাজ ছাড়া অন্য কোথাও কাজের ব্যবস্থা নেই। অনেক গরিব পরিবার দীর্ঘ ৩৮ দিন ধরে বাগানে কাজ হারিয়ে রেশন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের বিকল্প আয়ের উৎস ও সঞ্চয় নেই। বিশেষ করে অসুস্থ নারী ও শিশুরা পড়েছে কষ্টের মধ্যে। বাগান বন্ধ থাকায় বাগান পরিচালিত হাসপাতালে চিকিৎসাও বন্ধ রয়েছে। 

তিনি বলেন, যে সকল শ্রমিক ব্যবস্থাপকের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এভাবে বাগান বন্ধ হয়ে থাকলে চা বাগানের প্রায় ৩ হাজার লোক দুরবস্থায় পড়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বাগান খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। 

চা বাগানের ব্যবস্থাপক সামসুল ইসলাম বলেন, বাগান চালুর বিষয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ আন্তরিক রয়েছে। বৈকণ্ঠপুর চা বাগান মূলত রুগ্ন বাগান। গত ৪ বছরে এ বাগানে ১০ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। এ বাগানে ১ কেজি চা উৎপাদন করতে খরচ পড়ে ১৬০ টাকার উপরে। কিন্তু ১ কেজি চা পাতার নিলাম বাজার দর ১২০ টাকা। প্রতি বছর কোটি টাকা লোকসানের পরও চা শ্রমিকের রেশন, চিকিৎসা, আবাসন ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিয়মিত রয়েছে। ব্যবস্থাপকের গায়ে হাত তোলায় কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এ বাগানে কর্মপরিবেশ এখন নিরাপদ নয়।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, বাগানের সমস্যা সমাধানের জন্য রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকালে শ্রমিক নেতা ও বাগান কর্তৃপক্ষকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। তিনি আশা করেন, আগামীকালের মধ্যে বাগানের সমস্যা সমাধান হবে। শ্রমিক পরিবারে খাদ্য সংকট থাকলে তালিকা করে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও।  

মামুন/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়