ঢাকা     রোববার   ২৬ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১২ ১৪২৯ ||  ২৫ জিলক্বদ ১৪৪৩

র‌্যাগিংয়ের দায়ে যবিপ্রবি’র ৩ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১৯, ২১ মে ২০২২   আপডেট: ২১:৩৭, ২১ মে ২০২২
র‌্যাগিংয়ের দায়ে যবিপ্রবি’র ৩ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার

ফাইল ছবি

র‌্যাগিংয়ে জড়িত থাকার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের তিন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের (ইএসটি) মো. আল-আমিন, গণিত বিভাগের মো. সোহেল রানা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মো. বারিউল হক মুবিন। 

শনিবার (২১ মে) দুপুরে যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলনকক্ষে রিজেন্ট বোর্ডের ৭৮তম বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বোর্ডের সদস্যদের অনেকে সশরীরে উপস্থিতির থাকার পাশাপাশি ভার্চুয়ালিও যুক্ত থাকেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিভিন্ন বিভাগের আরও ১০ জন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে র‌্যাগিংয়ের মতো অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে না উল্লেখ করে অভিভাবকের সম্মতিসহ ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিতে হবে মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

মুচলেকা না দিলে ওই শিক্ষার্থীদেরও এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটি ‘রুলস অব ডিসিপ্লিন ফর স্টুডেন্টস’ অনুযায়ী এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তাদের শাস্তি সংক্রান্ত নোটিশ শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

জানানো হয়, গত ১৭ এপ্রিল ২০২২ তারিখে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের ৩২০ নম্বর কক্ষ হতে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. সাব্বির আলমকে ডেকে নিয়ে আজীবন বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। ফলে মো. সাব্বির আলম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

উল্লেখ্য, ওই কক্ষে উপস্থিত অন্য ১০-১৫ জন ছাত্র তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন বলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে। সাব্বির জ্ঞান হারানোর পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং এক থেকে দেড় ঘণ্টা হাসপাতালে না নিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ধরাধরি করে নিচে নামিয়ে যবিপ্রবির অ্যাম্বুল্যান্সযোগে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

হাসপাতালে ওই দিন রাতে মো. সাব্বির আলমকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও কিছু শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। পরদিন সকালে (১৮ এপ্রিল) তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই হলে ফেরত আনা হয়। প্রশাসনের কাছে কোনোরূপ অভিযোগ না করার জন্য তাকে হুমকিও প্রদান করা হয়।

সাব্বির আলমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, হুমকি প্রদান এবং আলামত লুকানোর চেষ্টার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় রিজেন্ট বোর্ড থেকে তাদের এই শাস্তি প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রিজেন্ট বোর্ডের সভায় র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধেও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

রিটন/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়