ঢাকা     বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৯ ||  ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

ইউপি নির্বাচন জিততে চান মিজান

রেজাউল করিম, গাজীপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৪৭, ৩০ মে ২০২২   আপডেট: ১১:০৯, ৩০ মে ২০২২
ইউপি নির্বাচন জিততে চান মিজান

নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মিজানুর রহমান

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রচারণা শুরু করেছেন মিজানুর রহমান। দুটি পা অচল হওয়ায় হাতের উপর ভর করে সারাদিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন তিনি। প্রতিবন্ধী মানেই অপরের ওপর বোঝা নয় বরং প্রতিবন্ধীরাও সমাজের মানুষের জন্য কিছু করতে পারে এমন স্বপ্নকে ধারণ করে নির্বাচন জিততে চান তিনি।

আগামী ১৫ জুন গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচনে মিজানুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মোরগ প্রতীক নিয়ে ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদে লড়াই করছেন।

মিজানুর কালিয়াকৈর উপজেলার দক্ষিণ মৌচাক এলাকার গিয়াসউদ্দিন মাঝির ছেলে। পেশায় তিনি একজন মুদি দোকানদার। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে জিহাদুল ইসলাম (১৫) মৌচাক রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেয়ে সুসলিমা জাহান মারিয়া (১০) ও ছোট ছেলে ইমামুল মুরসালিন (৭) স্থানীয় মাদরাসার ছাত্র। মৌচাকের আইসমার্কেটের একটি মুদি দোকানই তার আয়ের একমাত্র উৎস।

মৌচাক এলাকার বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘মিজানুর রহমান ভালো মানুষ। শারিরীক প্রতিবন্ধী হওয়ায় দোকানদারি করে সংসার চালান। আমার কাছে মনে হয় শারিরীক প্রতিবন্ধীকতা নিয়ে ইউপি সদস্য হওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই। একজন সুস্থ মানুষ যখন খারাপ কাজ করে সেটাই বরং সমাজের জন্য ভয়ংকর।’

অপর বাসিন্দা বাবুল হক বলেন, ‘মিজানুরকে নিয়ে সবাই আলোচনা করছে। ইউপি নির্বাচনে যেই জয়লাভ করুক আমাদের আশা তিনি সমাজের জন্য, মানুষের জন্য কিছু করবেন।’ 

মিজানুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিনের একটা চাপা ক্ষোভ ছিল মনের মধ্যে। মানুষ নির্বাচনের আগে অনেক কিছু করবে বলে কথা দেয় কিন্তু নির্বাচন শেষে কোনো খবর থাকে না। এ জন্য ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মোরগ প্রতীকে নির্বাচন করছি। আমি প্রতিবন্ধী হলেও ভিক্ষাবৃত্তি করিনা। আমি একজন কর্মঠ মানুষ, ব্যবসা করি। আমি যেহেতু শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়েও সুন্দর করে সংসার পরিচালনা করতে পারছি ইনশাআল্লাহ সেভাবেই নির্বাচনে জিতে মানুষের জন্য করতে পারবো। আমি টাকা পয়সা দিয়ে নির্বাচন করতে পারবো না, আমার দোয়া ও ভালোবাসা প্রয়োজন এবং এটা আমি মানুষের কাছ থেকে পাচ্ছি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমি কাউকে চা খাওয়ার অনুরোধ করলে এলাকার মানুষ খায় না বরং তারাই আমাকে খাওয়ার অনুরোধ করেন। সমাজের মানুষ আমাকে অবহেলা নয় বরং উৎসাহ দিচ্ছে। ইনশাআল্লাহ এই দোয়ার কারণে আমি নির্বাচনে জয়ী হব।’ 

মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় মানুষ প্রতিবন্ধীদের বকাবকি করে, অবহেলা করে। আমি নির্বাচনে জয়লাভ করে দেখিয়ে দিতে চাই, প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়, তারাও সমাজের সেবা করতে পারে।’

৬ নম্বর ওয়ার্ডে মিজানুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে নির্বাচন করছেন  মো. লাবিব উদ্দিন এবং ফখরুল ইসলাম মজুমদার।

গত ১৭ মে মৌচাক ইউপি নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষদিন ছিল। ১৯ মে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করা হয়। ১৬ মে ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২৭ মে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।  

মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের মোট ভোটার ৬৮৯৪৫ জন। এরমধ্যে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ৩১১২৮ জন।

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়