ঢাকা     সোমবার   ১৫ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯ ||  ১৬ মহরম ১৪৪৪

যমুনায় ভাঙন অব্যাহত, আতঙ্কে মানুষ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩৮, ৬ জুলাই ২০২২  
যমুনায় ভাঙন অব্যাহত, আতঙ্কে মানুষ

ছবি: রাইজিংবিডি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি কমার পর গত কয়েক দিন ধরে আবার বাড়তে শুরু করেছে। সঙ্গে ভূঞাপুরে ভাঙনও শুরু হয়েছে। 

চলতি বন্যা মৌসুমে চার ইউনিয়নে প্রায় এক হাজার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভাঙন রোধ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এসব ভাঙনকবলিত মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে গোবিন্দাসী, নিকরাইল, অর্জুনা ও গাবসারায় যমুনার করালগ্রাসে প্রায় এক মাসের ব্যবধানে ১ হাজার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

ভাঙনের শিকার জহুরা বেগম বলেন, আমাদের গ্রামে প্রায় হাজারের ওপরে বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে।  আমরা এখন নিঃস্ব। আামাদের এখন থাকার মতো কোন জায়গা-জমি নেই। ঘরেও নেই খাবার। এ অবস্থায় কোনো সহযোগিতা পাইনি।

ইনছান আলী বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের  কারণে শতশত বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এসব দেখার কেউ নেই। জনপ্রতিনিধিরা শুধু দূর থেকে দেখে চলে যান। ভাঙন রোধে তাদের কোনো উদ্যোগ নেই। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে, অসংখ্য পরিবার বসতভিটা হারিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুব বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় ৯০ ভাগ জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। চলতি বন্যায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসুদেবকোল ও তালতলা গ্রামের প্রায় ৪০০ বাড়ি ও চারটি মসজিদ ভেঙে গেছে। ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহালম শাপলা বলেন, চলতি বন্যায় এখন পর্যন্ত মেঘার পটলসহ দুই গ্রামের ৪৫টি বাড়ি এবং গত নিকলাপাড়া জোয়াকদারপাড়া, রেহাই সিন্দুনি গ্রামে ৫০টি বাড়ি ভাঙছে। ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

গোবিন্দাসী ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন চকদার বলেন, ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, খানুরবাড়ি, চিতুলিয়াপাড়া ও ভালকুটিয়ায় এলাকায় ভাঙন রোধে এমপির মহোদয়ের উদ্যোগে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

ভূঞাপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, ভাঙনের ব্যাপারে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভূঞাপুরে ভাঙন রোধে ৩০০ মিটারের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে আরও জিও ব্যাগ ফেলা হবে। 

/কাওছার/সাইফ/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়