ঢাকা     সোমবার   ১৫ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯ ||  ১৬ মহরম ১৪৪৪

কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

কাঞ্চন কুমার, কুষ্টিয়া || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২৮, ৬ জুলাই ২০২২   আপডেট: ১০:৩৭, ৬ জুলাই ২০২২
কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

ছবি: রাইজিংবিডি

দুয়ারে ঈদুল আজহা। ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখর কুষ্টিয়ার পশুর হাটগুলো। জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য প্রায় ১ লাখ গরু ও মহিষ, ৮০ হাজার ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা।

কুষ্টিয়ার সবচেয়ে বড় পশু হাটের ইজারাদার কামাল হোসেন বলেন, এ বছর সিলেট ও চট্টগ্রামের ব্যাপারিদের আগমন কম। এখন আর মাত্র কয়েকদিন বাকি আছে। এ সময়ের মধ্যে স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যেই গরু, ছাগল বেচাকেনা হবে।

মিরপুর উপজেলার সদরপুর গ্রামের কৃষক শহিদুলের স্ত্রী হাফিজা খাতুন বলেন, এবার ৩টি দেশীয় জাতের ষাঁড় বড় করেছি। অন্যান্য বছর এই সময়ের মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে ব্যাপারিরা এসে গরু কিনে নিয়ে যেতেন। এবার এখনো আসেনি তারা। খাবারের দোকানে অনেক টাকা বাকি। খুব চিন্তায় আছি। গরু বিক্রি না হলে তো সমস্যায় পড়বো।

ভেড়ামারা উপজেলার সলক মণ্ডল বলেন, ‘গুড় তো গুড়, গুড়ের বাটীশুদ্ধি গায়েব হওয়ার দশা। গত বছর কোরবানির ঈদের পর ৬ডা গরু কিনিচি সাড়ে ৪ লাখ টাকায়। প্রতিটা গরুর জন্য দিনে খাওয়া খরচ হয় সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।  বছরে একটা গরু বড় করতি খরচই হয়ে যায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সমিতির ঋণের টাকা সুদসহ দিতি হবি। এখন এই গরুর দাম ১ লাখ বা ৯০ হাজার কয়। তালি তো ঘড়বাড়ি বেচি সব টাকা শোধ করা লাগবিনি’।

মিরপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম মাহমুদুল হক বলেন, এ বছর প্রান্তিক চাষীরা তাদের বিক্রয়যোগ্য সব পশু বিক্রি করতে পারবে কিনা সেই শঙ্কায় আছেন। অনেক খামারি ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণও নিয়েছেন। এছাড়া প্রান্তিক চাষীরা নিজ বাড়িতে গরু পালন করেছেন। উপজেলায় এ বছর সাড়ে ২১ হাজার গরু, মহিষ এবং প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ছাগল, ভেড়া আছে বিক্রয়যোগ্য।

কুষ্টিয়া জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ বছর কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলায় ১ লাখ গরু, মহিষ এবং ৮০ হাজার ছাগল, ভেড়া বিক্রির জন্য প্রস্তত।  স্বাভাবিক সময়ের হিসেব মতে, জেলার চাহিদা  মেটাতে প্রয়োজন মোট পশুর ৫০% ভাগ। বাকি ৫০% ভাগ পশুই জেলার বাইরে বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু দেশের হাওর অঞ্চলে বন্যার কারণে এসব পশু বিক্রিতে কিছুটা ঘাটতি আছে বলে চাষীরা তাদের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তবে সর্বশেষ জেলার বাইরে রপ্তানি বা বিক্রয়যোগ্য গরু মহিষ ছাগলের প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যে বিক্রয় হয়ে গেছে বলে খামারিদের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কুষ্টিয়ার মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মুনসুর রহমান বলেন, পশু মোটাতাজাকরণে কুষ্টিয়ার সুনাম থাকায় লাভজনক এ খাতে বিভিন্ন ব্যাংক স্বল্পমেয়াদী ঋণ দিয়ে থাকে। আমরাও দিয়েছি। এ খাতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা খামারিদের ঋণ দেওয়া আছে। এছাড়া অন্যান্য ব্যাংক, এনজিও এবং অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানও ঋণ দিয়েছে। প্রতি বছর ঈদের পরদিন এসব অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান প্রান্তিক পর্যায়ে কালেকশন বুথ স্থাপনে মাধ্যমে প্রদত্ত ঋণের টাকা সংগ্রহ করে। ঋণ গ্রহীতা খামারি ও চাষীরাও উৎসাহের সঙ্গে গৃহীত ঋণের টাকা পরিশোধ করে থাকেন। 

/কাঞ্চন/সাইফ/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়