ঢাকা     সোমবার   ১৫ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯ ||  ১৬ মহরম ১৪৪৪

গোপালগঞ্জে কোরবানির হাট কাঁপাবে টাইগার, দুরন্ত, রাজাবাবু-ধলাপাহাড়

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৪৮, ৬ জুলাই ২০২২   আপডেট: ১০:৫০, ৬ জুলাই ২০২২
গোপালগঞ্জে কোরবানির হাট কাঁপাবে টাইগার, দুরন্ত, রাজাবাবু-ধলাপাহাড়

টাইগার, দুরন্ত, রাজাবাবু ও ধলাপাহাড়। নামের সঙ্গে আকার আকৃতির মিলও রয়েছে গরুগুলোর। 

খামার মালিক গিয়াস উদ্দিন বলেন, কোরবানির সময় বিক্রি করার জন্য গরুগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। গরুগুলো মোটাতাজা ও দেখতে সুন্দর হওয়ায় ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকবে বলে আশা করছি। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের গিয়াস উদ্দিন ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ২০১৮ সালে মাত্র ৪টি ফ্রিজিয়ান জাতের বকনা গরু দিয়ে অগ্র ডেইরি ফার্মের যাত্রা শুরু করেন। এখন তার এ ফার্মে গরু সংখ্যা ৯০টি। এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টাইগার, দুরন্ত, রাজাবাবু ও ধলাপাহাড় নামে চারটি গরু প্রস্তুত করেছেন তিনি। আর তার নিজস্ব খামারে প্রস্তুত এই ৪টি গরু কোরবানির হাট কাঁপাবে। প্রায় ৩০ মণ ওজনের টাইগার ও দুরন্তের দাম হেঁকেছেন ৮ লাখ টাকা করে আর প্রায় ২৮ মণ ওজনের রাজাবাবু ও ধলাপাহাড়ের দাম সাড়ে ৬ লাখ টাকা করে। এই গরুগুলো দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন গ্রামবাসী ও ক্রেতারা। 

খামারের কর্মচারী আইয়ুব আলী বলেন, টাইগার, দুরন্ত, রাজাবাবু ও ধলাপাহাড় নামের এই চারটি গরুকে কোনো ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ও ইনজেকশন দেওয়া হয়নি। এদের গমের ভূষি, কলাই ভূষি, ধান ভাঙা, ছোলা ভাঙা ও উন্নত জাতের ঘাসসহ দেশীয় খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন গরুগুলোকে গোসল করাতে হয়। দিতে হয় পরিমাণ মতো খাবার। ১২ জন শ্রমিক এই খামারের ৯০টি গরুর দেখাশুনা করে। 

নড়াইল জেলা সদরের আগদিয়া গ্রামের মো. আতাউর রহমান ও খুলনার পাইকগাছা থানার আমীরপুর গ্রামের বিজয় কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, এই খামারে চারটি বিশালাকৃতির ষাড় আছে শুনে দেখতে আসছি। সত্যিই দেখে অনেক ভাল লাগলো।

অগ্র ডেইরি ফার্মের মালিক গিয়াস উদ্দিন বলেন, এবারের কোরবানিতে চারটি গরু প্রস্তত করা হয়েছে। টাইগার ও দুরন্ত এর ওজন প্রায় ৩০ মণ আর রাজাবাবু ও ধলাপাহাড় এর ওজন প্রায় ২৮ মণ হবে বলে আশা করছি। টাইগার ও দুরন্তের দাম চেয়েছি ৮ লাখ আর রাজাবাবু ও ধলাপাহাড় সাড়ে ৬ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে টাইগার ও দুরন্তের দাম উঠেছে ৬ লাখ টাকা করে। তবে ৭ লাখ টাকা করে দাম পেলে টাইগার ও দুরন্ত বিক্রি করে দেবো। আর রাজাবাবু ও ধলাপাহাড় ৬ লাখ টাকা হলে বিক্রি করবো। 

গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আজিজ আল মামুন বলেন, জেলায় যে সব খামারিরা কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ষাড় প্রস্তুত করেছেন তাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। আগামীতেও যারা কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ষাড় প্রস্তুত করবেন তাদেরও সহযোগিতা করা হবে। এ বছর জেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ৩৩ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

বাদল সাহা/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়