ঢাকা     রোববার   ০২ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৭ ১৪২৯ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

বরগুনায় রেকর্ড বৃষ্টি, নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সে. মি. উপরে

বরগুনা প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১২, ১৪ আগস্ট ২০২২  
বরগুনায় রেকর্ড বৃষ্টি, নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সে. মি. উপরে

বরগুনায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। জেলায় শনিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে আজ রোববার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫১ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এ ছাড়া বরগুনার বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পৌর শহরসহ নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়াও তলিয়ে গেছে জেলার দুই ফেরিঘাট। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। 

রোববার (১৪ আগস্ট) দুপুরে পৌরশহরের খামার বাড়ি, কলেজরোড, ব্রাঞ্চ রোড, ডিকেপি রোড, পশু হাসপাতাল রোড, ফার্মেসী পট্টী, লেক রোড, কসমেটিক্স পট্টী, রেডক্রিসেন্ট স্কুল, আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়  চরকলোনী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। 

বরগুনা সদরের পোটকাখালি আবাসন, ফুলতলা আবাসন, স্টেডিয়াম সংলগ্ন আবাসনের বাসিন্দারা জোয়ারের পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েন। পাথরঘাটার জিনতলা, তালতলীর শুভসন্ধ্যা এলাকার অন্তত দুই হাজার বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ সব এলাকার বাসিন্দারা জানান, শনিবার থেকে থেমে থেমে ভারী বর্ষণ হয়েছে। তবে রোববার ভোররাত থেকে একটানা ভারী বর্ষণ হয়েছে, সঙ্গে দমকা হওয়া ছিল।

বরগুনা বাজারের ব্যবসায়ী রহিম আইপিএস এর মালিক আব্দুর রহিম রাইজিংবিডিকে বলেন, সকালে ১০টার দিকে জোয়ার আসার সঙ্গে সঙ্গে ড্রেন থেকে পানি ঢুকে তার দোকান তলিয়ে যায়। মূলত এই ড্রেন দিয়ে পানি ওঠার জন্য সাধারণ মানুষ দায়ী। পলিথিনসহ নানান প্লাস্টিক ড্রেনে ফেলে দেয়। এজন্য পানি সঠিকভাবে ওঠা-নামা করতে পারে না।

ফুলতলা আবাসনের বাসিন্দা আনিসুর রহমান, শিউলি বেগম, মিনারা বেগমসহ একাধিক বাসিন্দারা জানান, উচ্চ জোয়ারে প্রতি বছরই আবাসন প্লাবিত হয়। প্রত্যেক জোয়ার তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বন্ধ থাকে রান্না খাওয়া। কেউ সহায়তাও করতে আসে না। 

চরকলোনী এলকার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, একটানা ভারী বর্ষণ ও উচ্চ জোয়ারের কারণে তার সিমেন্ট নষ্ট হয়েছে। 

উচ্চ জোয়ারের কারণে আমতলী-পুরাকাটা ও বড়ইতলা-বাইনচটকি ফেরীর গ্যাংওয়ে তলিয়ে গেছে। এতে গাড়ি নিয়ে পার হতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। যাত্রীরা বলেন, ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে উঠতে হয়। এভাবে পারাপার চলতে থাকলে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে সব থেকে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে গতকাল এবং আজ। যা গত দুই বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। পানি বিপদ সীমার অনেক উপরে, তবে এখন পর্যন্ত বেরিবাঁধ ভাঙার কোন খবর নেই। বেশ কিছু নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তারা সবাই বেরিবাঁধের বাহিরের বাসিন্দা। বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত প্রত্যেক জোয়ারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 

ইমরান/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়