ঢাকা     বুধবার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৯ ১৪২৯

পঞ্চগড় মুক্ত দিবস পালিত 

পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫১, ২৯ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ১২:০৬, ২৯ নভেম্বর ২০২২
পঞ্চগড় মুক্ত দিবস পালিত 

আজ ২৯ নভেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পঞ্চগড় পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয়। আর এই দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে সার্কিট হাউজ সংলগ্ন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম।

পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল হুদাসহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সবার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌরঙ্গী মোড়ের করতোয়া সেতুর উত্তর পাড়ের বধ্যভূমিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পুস্পস্তবক অর্পণের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পঞ্চগড় মুক্ত থাকলেও ১৭ এপ্রিল সকালে এসে দখলে নেয় পাক হানাদার বাহিনী। তারা পঞ্চগড়ে প্রবেশ করে পঞ্চগড় শহরে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং নির্বিচারে গণহত্যায় মেতে ওঠে। তবে, তা মুক্তিকামী বাঙালিদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। হতাশ না হয়ে দৃঢ় মনোবলে লড়াই চালিয়ে যান এ অঞ্চলের মুক্তিকামী মানুষেরা। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় ঠাকুরগাঁও মহকুমার ৬ নম্বর সেক্টরের অন্তর্গত ছিলো পঞ্চগড়। এ সেক্টরটির বেসামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন প্রদেশিক সদস্য অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। এছাড়াও অ্যাডভোকেট কমর উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন চৌধুরী, কাজী হাবিবর রহমান, আব্দুল জব্বার এ সেক্টরটির নেতৃত্ব দেন। 

সেসময় এ এলাকায় ৭টি কোম্পানির অধীনে ৪০টি মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ভারতে থেকে প্রশিক্ষিত হয়ে উত্তর পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে অতর্কিত গেরিলা হামলা চালাতে থাকেন তারা। তুমুল যুদ্ধের এক পর্যায়ে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাড়াশি আক্রমনে ২৯ নভেম্বরে পঞ্চগড় ছাড়তে বাধ্য হয় পাকবাহিনী। 

সাড়ে ৭ মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে পাক হানাদারবাহিনীর হাতে ৩৯ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ নাম না জানা অসংখ্য নিরিহ মানুষ মারা যান।

আবু নাঈম/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়