ঢাকা     সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৬ ১৪২৯

‘শ্রমিকের কথা ভাবার কেউ নাই, সবাই ব্যবহার করে’

শিরিন সুলতানা কেয়া, রাজশাহী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০২, ২ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৭:১৪, ২ ডিসেম্বর ২০২২
‘শ্রমিকের কথা ভাবার কেউ নাই, সবাই ব্যবহার করে’

‘আমাদের শ্রমিকের কথা তো ভাবার কেউ নাই। সবাই শুধু ব্যবহার করে। এখন হরতালও করছি। প্যাটে ভাত গেল, নাকি গেল না, সে কথা ভাবার কেউ আছে?’ পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে জানতে চাইলে এভাবেই কথাগুলো বলেন বাসের হেলপার মো. সবুজ।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকালে রাজশাহী নগরীর শিরোইলে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান বাস টার্মিনালে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

সবুজ বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে আজকে নিয়ে দুই দিন গাড়ি বন্ধ। আগামী ৫ তারিখে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা। সেদিনও বন্ধ থাকবে। এভাবে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকলে খাব কি? আর কিস্তি দিব কোত্থেকে?’

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের আগে ১ ডিসেম্বর থেকে রাজশাহী বিভাগে চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। গত ২৬ নভেম্বর নাটোরে এক সভা করে মহাসড়ক থেকে নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করাসহ ১১টি দাবি জানায় পরিবহন মালিক সমিতি। দাবি আদায় না হলে ১ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

যদিও বিএনপি বলছে, সমাবেশে নেতা-কর্মীদের যোগ দেওয়া ঠেকাতে সরকার এই ধর্মঘট চাপিয়ে দিয়েছে।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ধর্মঘটের কারণে শ্রমিকরা এখানে-সেখানে বসে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ গাড়ি ধোয়ামোছা করছেন। আবার কেউ বাসের ভেতরে ঘুমাচ্ছেন। কেউ কেউ তাস খেলছেন।

রফিকুল ইসলাম নামের এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, ‘আমরা তো হরতাল চাই না। এখুন মালিক বুল্যাছে হরতাল, আমরাও হরতাল করছি। মালিক চাহিলে চাকা ঘুইরবে, না চাহিলে ঘুইরবে না। আমরাও সরকারের পক্ষে, অন্য কুনু কথা নাই। খুব ভালো আছি।’

বাসচালক মো. বাবু জানান, তার বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায়। শহর থেকে বাড়ি যাওয়া-আসা করতে খরচ হবে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এই টাকা খরচ করতে পারবেন না বলে বাস বন্ধ থাকলেও বাড়ি যাননি। টার্মিনালেই থাকছেন।

তিনি জানান, এক শ্রমিক নেতা ভোটে দাঁড়াবেন। তিনি একবেলা খিচুড়ি খাওয়াচ্ছেন। বাকি দুবেলা হোটেল থেকে কিনে খাচ্ছেন। ঘুমাচ্ছেন বাসেই। তার পেটে খাবার গেলেও পরিবারের বাকি সদস্যরা খাচ্ছেন কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বাবু।

বিভাগীয় পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাফকাত মঞ্জুর বলেন, ‘ধর্মঘটের দুদিন হয়ে গেল, কিন্তু এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ কোন আলোচনা করেনি।’

তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার যদি এখনই আমাদের সঙ্গে বসে দাবি মেনে নেন, তাহলে ধর্মঘট তুলে নেব। কিন্তু কেউ যোগাযোগ করেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’

বিএনপির সমাবেশের আগে কেন ধর্মঘট? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই। বিএনপির সমাবেশ হচ্ছে রাজশাহীতে। জয়পুরহাট থেকেও আজ কোন বাস ঢাকা যায়নি, বগুড়া থেকেও যায়নি। অন্য কোন জেলা থেকে আসা তো দূরের কথা, ঢাকা যায়নি কোন বাস। যেতে তো সমস্যা নেই। তাহলে ঢাকা যাচ্ছে না কেন?’

কেআই

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়