ঢাকা     বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ১১ ১৪৩১

যশোরে গৃহহীন উপজেলা হচ্ছে শার্শা, বাঘারপাড়া ও কেশবপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০৯, ২১ মার্চ ২০২৩  
যশোরে গৃহহীন উপজেলা হচ্ছে শার্শা, বাঘারপাড়া ও কেশবপুর

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে যশোর জেলায় চুতুর্থ ধাপে জমিসহ ঘর পাচ্ছেন আরও ৩৩৩টি পরিবার। এর মধ্যে ১৪০টি পরিবারে জমিসহ ঘর হস্তান্তরের মাধ্যমে শতভাগ ভূমিহীন উপজেলা হতে যাচ্ছে জেলার শার্শা, বাঘারপাড়া ও কেশবপুর উপজেলা। 

বুধবার (২২ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেবেন। 

এর আগে তিন ধাপে যশোরে ৮ উপজেলায় এক হাজার ৭৬১টি বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এই প্রক্রিয়া আগামীতেও চলমান থাকবে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে কেউ গৃহহীন বা ভূমিহীন হন তাদের দ্রুত সময়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারাদেশে ভূমি ও গৃহহীনদের বাড়ি দিতে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার। এজন্য যেখানেই সরকারের খাস জমি রয়েছে সেগুলো উদ্ধার করে করে করা হচ্ছে বাড়ি। আর যেসব জায়গায় পর্যাপ্ত জমি নেই, সেখানে কেনা হচ্ছে জমি। শুধু তাই নয়, প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে থাকা খাসজমি উদ্ধার করে আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণ করেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন। এভাবে বিভিন্ন খাস জমি উদ্ধার করে যশোরে ১ হাজার ৭৬১টি বাড়ি উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছে ভূমিহীন ও অসহায়দের মধ্যে। এছাড়া আগামীকাল বুধবার এই প্রকল্পের চতুর্থধাপে জেলায় ৩৩৩টি পরিবারের মধ্যে জমিসহ বাড়ি দেওয়া হবে। 

চতুর্থ ধাপে কেশবপুরে ৪৫টি, শার্শায় ৪৬টি ও বাঘারপাড়ায় ৪৯টি জমিসহ বাড়ি দেওয়া হবে। এই ১৪০টি পরিবারে বাড়ি দেওয়ার মধ্যে দিয়ে তিনটি উপজেলা শতভাগ ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যশোরের এই তিনটি উপজেলা শতভাগ ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত জেলা ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান। 

জেলা প্রশাসক তামিজুল ইসলাম বলেন, বাকি ১৯৩টি বাড়ি অন্য ৫ উপজেলার ভূমিহীনদের হস্তান্তর করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দুই শতক জমির মালিকানার সঙ্গে দেওয়া বাড়িতে থাকছে দুটি করে শোয়ার ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি শৌচাগার, বারান্দা, বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির জন্য নলকূপ। প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, বিধবা, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীসহ অনেক গৃহহীন আছেন যারা এই বাড়ি পেয়েছেন। এটি আনন্দের বিষয়। আশ্রয়ণের ঘরে বসবাসের জন্য সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভূমিহীন ও গৃহহীনরা যেন উন্নত জীবনযাপন করতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

কেশবপুর উপজেলা র্নিবাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি দখল করে রেখেছিলেন। সেই সব জমি দখল মুক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিভিন্ন গৃহহীন ও ভূমিহীনদের নতুন ঘর তৈরি করে দিয়েছি। সরকার প্রধানের এমন উদ্যোগ এবং সরাসরি শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় আমি খুব আনন্দিত। 

শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারায়ন চন্দ্র পাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঘর ও জমি হস্তান্তর করবেন উপকারভোগীদের মধ্যে। এর মধ্য দিয়ে শতভাগ ভূমিহীন ও গৃহহীনতা মুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে শর্শাকে। উপকারভোগীরা এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।

রিটন/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়