প্রত্যেককে বিচার করা হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে, ধর্ম দিয়ে নয়: তারেক রহমান
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
শনিবার ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “এই দেশে আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছি। আগামীতেও আমরা চাই, প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে এই দেশে বসবাস করবে। যে যার যোগ্যতার ভিত্তিতে, যে যার মেধার ভিত্তিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। প্রত্যেককে বিচার করা হবে তার যোগ্যতা ও তার মেধার ভিত্তিতে, ধর্ম দিয়ে কোনো বিচার করা হবে না।”
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “এখন আমাদের দেশকে গঠন করতে হবে। এই দেশের অর্থনীতিকে, এই দেশের গণতন্ত্রকে মজবুত করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে এই দেশের মানুষের সামনে নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি হয়। ১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, তখন আমরা দেখিনি— কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান। ২০২৪ সালে যখন রাজপথে আন্দোলনে সবাই নেমে এসেছিল, তখনো দেখিনি— কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান।”
সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “সেরকম একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিএনপি আপনাদের পাশে থাকবে। তাই, আসুন আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য আজকে এই জনসভায় শপথ নেই। এই জনসভা হোক সেই শপথের জনসভা। যেই জনসভায় আমরা আমরা শপথ নেব— আমরা আগামী দিনে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যে দেশে সকল ধর্ম-মতের মানুষ একসাথে কাজ করবে। একসাথে আমরা দেশকে গড়ে তুলব।”
ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসন, পঞ্চগড়ের দুটি আসন ও দিনাজপুরের একটি আসনের প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, “আমি প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়েছি। প্রত্যেকটি মানুষকে আপনারা ১২ তারিখ পর্যন্ত দেখে রাখবেন। ১২ তারিখে তারা নির্বাচিত হলে তাদের দায়িত্ব হবে আপনাদেরকে ২৪ ঘণ্টা দেখে রাখা, এলাকাকে দেখে রাখা ও এলাকার মানুষকে দেখে রাখা।”
তারেক রহমান বলেন, “বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এবার সময় এসেছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন আর দেশ পুনর্গঠনে হাত দেওয়ার।”
তিনি বলেন, “দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়তে চাই। এজন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নারীরা সাবলম্বী হবে। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। এতে কৃষক সহজে ঋণ এবং সার ও বীজ পাবেন।”
১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
দেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, “এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ, দেশের মালিক জনগণ। তাই, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চাই।”
ঠাকুরগাঁওসহ এই অঞ্চলের উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “চিনিকলসহ এই অঞ্চলের শিল্প কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজ করার চেষ্টা করবে বিএনপি। হিমাগার তৈরি করা হবে, যেন কৃষক তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারে। বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আইটি হাব তৈরি করা হবে। মেডিকেল কলেজের দাবি বাস্তবায়ন করবে বিএনপি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
বিএনপি সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব এই এলাকায় বিমানবন্দর চালু করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।
ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের স্বার্থ দেখেছে, জনগণের স্বার্থ দেখেনি, এ অভিযোগ করে বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, “সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হেলথ কেয়ারার নিযুক্ত করে ঘরে বসে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।”
জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “দেশটি সবার, বিএনপির শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ। জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চায় বিএনপি, যেখানে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোটি মানুষের নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করতে চায় বিএনপি।”
জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে বাঁচাতে গোটা দেশ তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। কঠিন সময়ে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন দিতে হবে।”
ধানের শীষের বিকল্প নেই, মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “ধানের শীষের জয়ের মাধ্যমে দেশকে বাঁচাবেন তারেক রহমান।”
ঢাকা/হিমেল/রফিক