দুই জাহাজ কেনা নিয়ে ভিত্তিহীন খবর, প্রতিবাদ বিএসসির
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘দুই জাহাজই খেয়ে নিলো দশ মিলিয়ন ডলার’-শিরোনামে প্রতিবেদনকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। সংস্থাটি বলেছে, জাহাজ ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবাদলিপিতে বিএসসি জানায়, তাদের বহরে যুক্ত নতুন দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া, মূল্য ও গুণমান নিয়ে প্রকাশিত তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিএসসির ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ ক্রয়ের মতো বড় সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা একক দপ্তরের মাধ্যমে নেওয়া হয় না। এক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কমিটি, টেন্ডার কমিটি, প্রাক্কলন কমিটি এবং ক্লাস সার্ভেয়ারদের সমন্বয়ে একাধিক ধাপ পেরোতে হয়। পরে প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি ও ডিপিপি) প্রণয়ন করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নেওয়া হয়।
সংস্থাটি আরো জানায়, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে জাহাজ দুটি কেনা হয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই ক্রয় সম্পন্ন হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় আইআইএফসি এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম আইন সংস্থার পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
বিএসসির দাবি, আন্তর্জাতিক দরপত্রে পাওয়া সব প্রস্তাবই ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ছিল। সেখানে প্রতিটি জাহাজ ৩৮ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলারে কেনা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের তুলনায় কম। সংস্থার মতে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ৩২–৩৩ মিলিয়ন ডলারের তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।
জাহাজের গুণগত মান নিয়েও প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছে বিএসসি। তারা বলছে, জাহাজ দুটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে নির্মিত। এতে পশ্চিমা ও জাপানি যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হয়েছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে সক্ষম প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে।
বিএসসি আরো জানায়, জাহাজ দুটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক রুটে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশের পরিদর্শনে ‘জিরো ডেফিসিয়েন্সি’ অর্জন করেছে। এখন পর্যন্ত এগুলো থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে সংস্থাটি দাবি করে, গত অর্থবছরে বিএসসি ৮০০ কোটি টাকা আয় এবং ৩৫০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বিএসসি বলেছে, তাদের বক্তব্য আংশিকভাবে উপস্থাপন করে এবং যাচাইবিহীন তথ্য ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের প্রতিবেদনকে তারা ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ উল্লেখ করে প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।
ঢাকা/এএএম/এসবি
২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৪৭