ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

সাহসী নেদারল্যান্ডসের আক্রমণ থামাল পাকিস্তান, ঘাম ঝরানো জয়

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১৪, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৫:৫২, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সাহসী নেদারল্যান্ডসের আক্রমণ থামাল পাকিস্তান, ঘাম ঝরানো জয়

পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে তাকানো যাচ্ছিল না! সমর্থকদের মুখগুলো ছিল আরো বিমর্ষ। তা-ই বলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হার? সেটাও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে? নেদারল্যান্ডস বৈশ্বিক মঞ্চে ইংল্যান্ডকে দুইবার, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে আগে। তারাও জয় পেতে পারে সেই ভয় ঢুকে গিয়েছিল। 

সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান। নেদারল্যান্ডসের দেওয়া ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শাদাব খান যখন আউট হলেন তখন তাদের রান ৭ উইকেটে ১১৪। শেষ ৩ উইকেটে ২৩ বলে প্রয়োজন ৩৪ রান। ১৭তম ওভারে ১ রানের বেশি পায়নি পাকিস্তান। ১৮তম ওভারে ফাহিম আশরাফ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি ৪ রানের বেশি নিতে পারেনি। 

জয়ের পাল্লা তখন নেদারল্যান্ডসের ভারী হয়ে যায়। ১২ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ২৯ রান। কিন্তু ওই ওভারেই ম্যাচের মোড় পাল্টে যায়। ফাহিম ৩ ছক্কা, ১ চার ও ১টি ডাবল রানে ২৪ রান আদায় করে নেন। ভন ভিকের করা ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন ফাহিম। ও’ ডউড সেই ক্যাচ মিস করে ম্যচাটাই মিস করে দেন ডাচদের হয়ে। 

পরের ওভারে ফাহিমের চারে নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের জয়। সহজ জয়টাও তাদের পেতে হয়েছে ঘাম ঝরিয়ে। ১১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ২৯ রান করে পাকিস্তানের জয়ের নায়ক ফাহিম। ৩ বল আগে ৩ উইকেটে জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করলো ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। 

বৈশ্বিক মঞ্চে নেদারল্যান্ডস বরাবরই সাহসী ও দুর্বার এক নাম। সেই পরিচয়েরই আরেকটি উজ্জ্বল পেতে যাচ্ছিল ক্রিকেট বিশ্ব। ২০০৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপেই উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল ডাচরা। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামেও ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে সেই আত্মবিশ্বাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে নেদারল্যান্ডস। অস্ট্রেলিয়ায় ২০২২ বিশ্বকাপে তারা উড়িয়ে দেয় জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকাকেও। চমক দেওয়ার সেই তালিকায় পাকিস্তান প্রায় নাম লিখিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু ফাহিমের শেষের ঝড়ে বেঁচে যায় তারা।

ব্যাটিংয়ে পিছিয়ে পড়ার আগে বোলিংয়েও ভুগছিল পাকিস্তান। পরে আবার ঘুরে দাঁড়ায়। নেদারর‌্যান্ডসের ১২.৩ ওভারে ৩ উইকেটে রান ১০৫। পরপর দুই চার মেরে বাস ডি লিড ও এডওয়ার্ডস দলের রান এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল শেষ হাসিটা তারাই হাসবেন।

কিন্তু তেমন কিছু হয়নি। শেষ ৫ ওভারে নেদারল‌্যান্ডস পায় মাত্র ২৬ রান। হারায় ৬ উইকেট। তাতে স্কোরবোর্ডে পুঁজি মাত্র ১৪৭ রান। ইনিংস শেষ হবার ১ বল আগেই অলআউট নেদারল‌্যান্ডস। ডি লিড ২৫ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩০ রান করেন। এডওয়ার্ডস ২৯ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৩৭ রান। এছাড়া মাইকেল লেভিট ১৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৪ এবং কলিন আকারম‌্যান ১৪ বলে করেন ২০ রান। শেষ দিকে আরিয়ান দত্তের ৮ বলে ১৩ রানের ইনিংসে দেড়শর কাছাকাছি যায় নেদারল‌্যান্ডসের ইনিংস।

পাকিস্তানের বোলিং ইনিংসে শেষ দিকে হাসি ফেরান সায়েম আইয়ুব। ১ ওভারে ৭ রানে ২ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া মোহাম্মদ নওয়াজ ও আবরার আহমেদ ২টি করে উইকেট পেয়েছেন। তবে ৩ উইকেট নিয়ে তাদের সেরা বোলার ছিলেন পেসার সালমান মির্জা।

লক্ষ‌্য তাড়ায় দলীয় ২৭ রানে সায়েম (২৪) ও অধিনায়ক সালমান আগা (১২) ৫৩ রানে সাজঘরে ফেরেন। সেখান থেকে শাহিবজাদা ফারহান ও বাবর আজম ৪৫ রানের জুটি গড়েন। মনে হচ্ছিল তাদের ব‌্যাটেই পাকিস্তান সহজ জয় নিশ্চিত করবে। 

কিন্তু বিপর্যয় শুরু হুট করে। ৯৮ রানে শাহিবজাদা (৪৭) আউট হওয়ার পর ১৬ রান যোগ করতে আরো ৪ উইকেট তারা। তাতেই সব ওলটপালট হয়ে যায় পাকিস্তানের। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রানও আটকে রাখেন ডাচ বোলাররা। 

আক্রমণাত্মক ও সাহসী ক্রিকেটে মন জয় করে নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু শেষ হাসিটা হাসতে পারেনি। ও’ ডাউড ক‌্যাচ মিস করে ফাহিমকে জীবন দেন। ওই জীবনেই ফাহিম পেয়ে যান পূর্ণতার স্বাদ। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন বাঁহাতি ব‌্যাটসম‌্যান। 

পাকিস্তানের পরের ম‌্যাচ ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। নেদারল‌্যান্ডস একই দিন খেলবে নামিবিয়ার বিপক্ষে। 

ঢাকা/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়