ঢাকা     শুক্রবার   ২৪ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪৩১

পরিবারের সঙ্গে বিকেলে শেষ কথা বলেন সবুজ, চেয়েছিলেন দোয়া

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৩, ২৯ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ১০:৩৯, ২৯ মার্চ ২০২৩
পরিবারের সঙ্গে বিকেলে শেষ কথা বলেন সবুজ, চেয়েছিলেন দোয়া

সবুজ হোসাইন

গত সোমবার বিকেলে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা বলেছিলেন সবুজ হোসাইন। ওমরাহ করতে যাচ্ছেন বলে বাবা-মাকে দোয়া করতে বলেছিলেন। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনায় কেড়ে নিলো তরতাজা এই যুবকের প্রাণ।

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় আসির প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান সবুজ। দুর্ঘটনার খবর জানতে পারার পর থেকেই তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিকে হারিয়ে সবাই এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।  

আরও পড়ুন: সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহত নোয়াখালীর হেলাল-শহীদুলের বাড়িতে চলছে মাতম

মারা যাওয়া সবুজ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার চর মোহনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম হারুন। কৃষি কাজ করে তিনি সংসার চালান।

বুধবার (২৯ মার্চ) সকালে মারা যাওয়া সবুজের চাচা বাচ্চু জানান, প্রায় ৩ বছর আগে সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ঋণ করে হোটেল শ্রমিক হিসেবে সৌদি আরবে যান সবুজ। প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও এখনো ৩ লাখ টাকা ঋণগ্রস্থ রয়ে গেছে পরিবার। চার ভাই বোনের মধ্যে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন সবুজ। 

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার দিন বিকেলেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন সবুজ। মা-বাবার কাছে ওমরাহ করতে যাচ্ছেন জানিয়ে দোয়া চান। এরপর রাতে আমরা তার মৃত্যুর খবর পাই। তখন থেকেই আহাজারী যেন থামছেনা পুরো পরিবারে। আমরা চাই, সরকার যেন দ্রুত সবুজের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনে। 

আরও পড়ুন:সৌদি আরবে নিহত ৮ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

নিহতের বাবা মো. হারুন বলেন, ৩ বছর আগে হোটেল শ্রমিকের ভিসায় সবুজ সৌদি আরব যান। সেখান থেকে সে টাকা পাঠাতো। তার পাঠানো ১ লাখ টাকা দিয়ে ঋণ কিছুটা পরিশোধ করেছি। এখনো প্রায় ৩ লাখ টাকা মানুষের দেনা রয়েছি। 

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে বাস দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক

তিনি আরও বলেন, গত বছরও সবুজ ওমরাহ পালন করেছে। এবারও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বিকেলে বের হয়েই ফোন দিয়েছে। ফোনে দোয়া করতে বলে। আগামী বছর দেশে ফিরবে বলেও জানিয়েছিল সে। এরই মধ্যে তার মৃত্যুর খবরে আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি। একদিকে ছেলে বেঁচে নেই অন্যদিকে ঋণের বোঝা মাথায় রয়ে গেলো। এখন ছেলের লাশ দ্রুত দেশে আসলে শেষ দেখা দেখতে পরিবারের সবাই অপেক্ষা করছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছে তার মা পারুল বেগমও।

আরও পড়ুন: সৌদিতে বাস উল্টে ১০ বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রী নিহত

উল্লেখ্য, ২৭ মার্চ সৌদি আরবে স্থানীয় সময় বিকেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওমরাহযাত্রীদের বহনকারী একটি বাস আকাবা শার এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ওই বাসে ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৫ জন বাংলাদেশি। দুর্ঘটনায় ২৪ জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে ১০ জনই বাংলাদেশি। 

জাহাঙ্গীর/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়