ঢাকা     শনিবার   ২০ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৫ ১৪৩১

অধিক ফলনশীল তিল ও চিনা বাদাম চাষে উদ্বুব্ধকরণে মাঠ দিবস 

ফরিদপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০০, ৮ জুন ২০২৪  
অধিক ফলনশীল তিল ও চিনা বাদাম চাষে উদ্বুব্ধকরণে মাঠ দিবস 

অতিথিদের বারি তিল-৪ ও বারি চিনা বাদাম-৮ এর ক্ষেত পরিদর্শন

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ফরিদপুরের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে আজ শনিবার (৮ জুন) ফরিদপুরের সদর উপজেলার ডিক্রির চরের পালডাঙ্গী গ্রামে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের অধীনে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বারি তিল-৪ ও বারি চিনা বাদাম-৮ কৃষকদের পরিচিত করা এবং চাষে উদ্বুব্ধ করা হয়। 

প্রকল্পের ফরিদপুর অঞ্চলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) তৈলবীজ গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প সমন্বয়ক ড. ফেরদৌসী বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মসলা গবেষণা উপ-কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলাউদ্দিন খান, ফরিদপুরের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আলী হোসেন। 

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওই অঞ্চলের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক সহকারীরা। 

মাঠ দিবসে শতাধিক কৃষাণ কিষাণী অংশ নেন। এ বছর পালডাঙ্গী গ্রামে বারি তিল-৪ ও বারি চিনা বাদাম-৮ এর বাম্পার ফলন হয়েছে। এ জাত দুটি খরা সহিষ্ণু হওয়ায় চরাঞ্চলে আবাদের জন্য উপযোগী। 

অতিথিরা কৃষকদের সঙ্গে চরাঞ্চলে বারি তিল-৪ ও বারি চিনা বাদাম-৮ এর উৎপাদন কার্যক্রমের মাঠ পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত সবাই বারি উদ্ভাবিত আধুনিক তিল ও বাদাম জাত গ্রহণ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

বক্তারা বলেন, এ দেশের কৃষকরা সাধারণত স্থানীয় জাতের তিল ও চিনা বাদাম আবাদ করে থাকে। দেশি তিল হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১ দশমিক ১ টন। বারি তিল-৪ এর হেক্টর প্রতি ফলন ১ দশমিক ৫ টন। দেশি চিনা বাদাম হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১ দশমিক ৮ টন। বারি চিনা বাদাম-৮ এর হেক্টর প্রতি ফলন ২ দশমিক ৫ টন। তাই নতুন জাত আবাদে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হবে। 

এ ছাড়া এই বারি তিল-৪ ও বারি চিনা বাদাম-৮ জাত দুটি খরা সহিষ্ণু হওয়ায় চরাঞ্চলে আবাদের জন্য উপযোগী।

প্রধান অতিথি বলেন, প্রতি বছর ভোজ্যতেল আমদানিতে সরকারের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। তাই পরিবারের ও দেশের চাহিদা পূরণে তিল ও চিনা বাদাম আবাদ ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হবে। সঠিক পরিচর্যা ও সুষম সার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদনের পাশাপাশি নিজেদের খাদ্য তালিকায় সরিষা ও সয়াবিন তেলের পাশাপাশি তিল ও চিনা বাদাম তেলের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

সবাইকে বারি উদ্ভাবিত অন্যান্য নতুন জাত ও প্রযুক্তি গ্রহণ করে কৃষির উৎপাদন আরও একধাপ এগিয়ে নিতে অনুরোধ করেন ড. সেলিম আহম্মেদ। 

তামিম/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়