ঢাকা     শুক্রবার   ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৫ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

নীলফামারীর অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে এক বছরে নিহত ১৪

নীলফামারী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১১, ৮ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৫:১৩, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
নীলফামারীর অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে এক বছরে নিহত ১৪

নীলফামারীর একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং পার হচ্ছে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা

নীলফামারীর অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এসব ক্রসিংয়ে ঘটছে একের পর এক মৃত্যু। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন নারী-পুরুষসহ ১৪ জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান। অনেক স্থানে কেবলমাত্র সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড লাগিয়ে দায় সারছে কর্তৃপক্ষ। 

স্থানীয় সূত্র বলছে, নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত অসংখ্য অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং রয়েছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার নথি বলছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব রেল ক্রসিংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন নারী-পুরুষসহ ১৪ জন।

আরো পড়ুন:

অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে প্রায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে


একটি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে জেলার সদর উপজেলার মনশাপাড়া এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের তিন ভাই-বোনসহ মোট চারজনের প্রাণহাণি ঘটে। এরপর ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি সদর উপজেলার দাড়োয়ানী এলাকার অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কায় চারজন ইপিজেডকর্মী নিহন হন। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর জেলার চিলাহাটি থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনে কাটা পরে নারী-পুরুষসহ প্রাণ হারান মোট ২৪ জন।

রেলওয়ে বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত মোট ৩৬টি লেভেল ক্রসিং অনুমোদিত থাকলেও, এর মধ্যে শুধুমাত্র ১৩টি লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান রয়েছে।

নীলফামারী সদর উপজেলার দারোয়ানী বাজার এলাকার আব্দুল গফুর বলেন, “চিলাহাটি থেকে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত অনেক অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী, সাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাক্টর, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস এবং মিনিবাস শুধুমাত্র সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড অনুসরণ করে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংগুলো পারাপার হচ্ছে।”

সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড


নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ উন নবী বলেন, “২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী-পুরুষসহ প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। এসব ঘটনায় মোট ১৩টি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু হয়েছে।”

ঢাকা/সিথুন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়