ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় রোগীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১

শরীয়তপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১১, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৪:৩২, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় রোগীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১

রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখা হয়।

শরীয়তপুরে রোগী বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা যাওয়ার পথে দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় চিকিৎসা না পেয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মৃত ব্যক্তির নাম জমশেদ আলী ঢালী (৭০)। তিনি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার পালং মডেল থানায় মামলাটি করেন নিহতের নাতি জুবায়ের হোসেন রুমান ঢালী। মামলার প্রধান আসামি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানকে শরীয়তপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- চালক সজিব (২৮), পারভেজ (২৬) ও হান্নান (২৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার অসুস্থ অবস্থায় জমশেদ আলীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা নেওয়ার জন্য সাড়ে ছয় হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন স্বজনরা। তবে পরে চালক ও তার সহযোগীরা আট হাজার টাকা দাবি করেন। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই অ্যাম্বুলেন্স চালক যাওয়া বাতিল করে এবং রোগীর স্বজনদের অন্য অ্যাম্বুলেন্সে যেতেও বাধা দেয়।

পরবর্তীতে অটোরিকশায় করে রোগীসহ শহরের চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় পৌঁছান সব্জনরা। সেখান থেকে ঢাকাগামী অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রওনা হন তারা। কিছুদূর যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্স চালক ঢাকাগামী ওই অ্যাম্বুলেন্সটি আটক করে চালককে মারধর করে এবং চাবি কেড়ে নেয়। এ ঘটনায় প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখা হয় অ্যাম্বুলেন্সটি। পরে ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক জমশেদ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সঙ্গে সভা করেন জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার অঙ্গীকার করে লিখিত মুচলেকা দেন অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অ্যাম্বুলেন্সগুলোর কাগজপত্র যাচাই এবং নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, “মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

ঢাকা/আকাশ/এস

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়