ঢাকা     সোমবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৫ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রুমিন ফারহানাকে এবার শোকজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০১:০০, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬  
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রুমিন ফারহানাকে এবার শোকজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ফাইল ফটো।

প্রার্থিতা থেকে গণসংযোগ পর্বের পুরোটা সময় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে ভোটারের মন জয় করার চেষ্টার পাশাপাশি অন্যরকম লড়াইয়ে মেনে ঘুরে ফিরে সৃষ্ট বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সঙ্গে সঙ্গে সামাল দিতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকেও, যারা এবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) চিঠি দিয়েছে তাকে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) এই প্রার্থীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শাহরিম আক্তার জাহান নোটিশের চিঠি দিয়ে আগামী ২২ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আরো পড়ুন:

নোটিশে লেখা রয়েছে, গত ১৭ জানুয়ারি বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামপুর নামক স্থানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ লোকের উপস্থিতিতে একটি নির্বাচনি সমাবেশ আয়োজন করা হয়। সেখানে প্যান্ডেল নির্মাণসহ মাইকে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো হয়, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দিলে প্রার্থী রুমিন ফারহানা প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য করেন বলে অভিযোগ এনে নোটিশে বলা হয়েছে, এ সময় তিনি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং অসৌজন্যমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় প্রার্থী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিচারিক কাজে বাধা দেন বলে নোটিশে অভিযোগ এনে বলা হয়েছে, পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

এ অবস্থায় নোটিশে বলা হয়, কেন তার বিরুদ্ধে নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা আগামী ২২ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৭ জানুয়ারি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডার ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেকে শাসিয়ে রুমিনকে বলতে শোনা যায়, ‍“আমি না বললে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না, স্যার।” 

অবশ্য রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা না ঘটলেও সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়।

এই ঘটনার পর বিএনপির লোকজন তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছেন বলে দাবি করে রুমিন বলেন, মন্ত্রিত্ব দেওয়ার কথা বলে সকাল-বিকাল ফোন করা হচ্ছে। 

আওয়ামী লীগের সরকার দায়িত্বে থাকার সময় ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখেও বিএনপির যে কয়েকজন নেতাকে রাজপথে ও মিডিয়ায় দেখা গেছে, রুমিন ফারহানা তাদের অন্যতম। নতুন বাস্তবতায়ও তাকে সরব দেখা গেছে। তবে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহ করে বসেন তিনি, ঘোষণা করেন স্বতন্ত্র প্রার্থিতা। দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও নির্বাচনে শেষপর্যন্ত লড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে রয়েছেন আলোচিত এই নারী প্রার্থী।

ঢাকা/পলাশ/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়