আবদুল আউয়াল মিন্টুর বেফাঁস কথা
ফেনী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জনসভায় বক্তব্য রাখছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু নিজ নির্বাচনী পথসভায় কর্মীদের স্লোগান থামাতে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে ‘শুয়োরের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়েছেন। গালি দেওয়ার মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার দুধমুখা এলাকায় একটি নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম দিনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। সেসময় ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্যের মাঝে স্থানীয় শ্রমিক দলের কর্মী জসিম উদ্দিন বারবার স্লোগান দিচ্ছিলেন।
সেসময় মিন্টু স্লোগান থামাতে গিয়ে বলেন, “শুয়োরের বাচ্চা থাম, একে আর আনবি না তো”! পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জাফর ইকবাল ইমন নামে একজন ফেসবুকে মন্তব্য করে লেখেন, “সামান্য স্লোগানে মেজাজ হারিয়ে বলতেছে শুয়োরের বাচ্চা। এবার নির্বাচিত হলে কী বলবে বুঝতে পারতেছেন আপনারা?”
মাহমুদুল হাসান নামে একজন লিখেছেন, “এসব ফরেনার আমাদের দেশে আসছে এটিও তো অনেক। এমন করে কেন মানুষ?”
মো. নুরুল আমিন লেখেন, “এরা যদি এমপি নির্বাচিত হয় তাহলে জনগণের কী হাল করবে সেটি এখান থেকেই অনুমান করা যায়।”
ওমর ফারুক নামে আরেকজন লেখেন, “গার্ডিয়ান হিসেবে উনি ধমক বা চিল্লাচিল্লি করতে পারেন, এটি কোন ব্যাপার না। দুই একটা কথা তো ডানে-বামে হবেই। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুক, আর যারা এটির রিপিট করি ভিডিও করতেছেন তাদেরকেও আল্লাহ হেফাজত করুক।”
এনসিপির ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “যে নেতা নিজ দলের কর্মীকে জনসম্মুখে ‘শুয়োরের বাচ্চা’ বলতে পারে, যে নেতা এই দেশের জনগণকে ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে অবজ্ঞা করতে পারে- তার কাছ থেকে এই দেশের মানুষের সেবা কল্পনা করাই বিলাসিতা। মনে রাখবেন এই তথাকথিত ব্লাডি সিটিজেনরাই এ দেশের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবে। সেই জনপ্রতিনিধি অবশ্যই এই মাটির সন্তান, এই জনগণের মধ্য থেকেই আসবে; কোনো ব্লাডি ফরেইনার থেকে নয়।”
এর আগে, গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে শুনানি চলাকালীন বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সাধারণ নাগরিকদের ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে সম্বোধন করেছেন বলে অভিযোগ করেন কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এবার আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেছিল। গত ১৮ জানুয়ারি তা নামঞ্জুর করে মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রাখে ইসি।
ঢাকা/সাহাব উদ্দিন/এস