আদালতের রায়ের ৫ মাস পরেও সরকারি চাকরিতে বহাল ফায়ারম্যান
গাইবান্ধা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
হৃদয় শেখ।
গাইবান্ধায় প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি সরকারি চাকরিতে বহাল আছেন। তার নাম হৃদয় শেখ (২২)। বর্তমানে তিনি ফায়ারম্যান হিসেবে সিলেটের ওসমানীনগরে কর্মরত আছেন। এতে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হৃদয় শেখ পাবনার সুজানগর উপজেলার ফকিৎপুর গ্রামের আব্দুল ওহাব শেখের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বুজরুক বোয়ালীয়া গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে হৃদয় শেখ গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের কথা বলে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। পরে সেই টাকা ও গ্যাস সিলিন্ডার দিতে অস্বীকৃতি জানালে আলমগীর হোসেন আদালতে মামলা করেন।
সেই মামলায় রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক দেওয়ান মনিরুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট হৃদয় শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার পর আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ মাস পার হলেও এখনো চাকরিতে বহাল আছেন হৃদয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা মূলে ওয়ারেন্ট ইস্যু রয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) হৃদয় শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেন এই প্রতিবেদক।
হৃদয় বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। বাদী আলমগীর আমার নামে মিথ্যা মামলা করেছেন। উচ্চ আদালতে আমি এর জবাব দেব।’’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘‘প্রায় এক মাস আগে হৃদয় শেখের বিরুদ্ধে আদালতের ওয়ারেন্টের কাগজ এসেছিল। সেগুলো ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ও তদন্ত কমিশনে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হবে।’’
ঢাকা/মাসুম/রাজীব