ঢাকা     বুধবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৫ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনমত গড়তে বিভাগীয় শহরে গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা

ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২০:৫৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনমত গড়তে বিভাগীয় শহরে গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ ব্যানারে যৌথভাবে এই কর্মসূচি পালন করবে তারা।

এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।

আরো পড়ুন:

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

সম্মেলনে তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ যে ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছে, গণভোট সেই স্বপ্নকে সাংবিধানিকভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ এনে দিয়েছে।” তবে, একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতৃত্ব এখনো এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডাকসুর ভিপি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বারবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না, বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করা যাবে না এবং একক ক্ষমতার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথ চিরতরে বন্ধ থাকবে।”

তিনি আরো বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করার লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ এক হয়ে এই দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এই কর্মসূচিতে ছাত্র প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, চিকিৎসক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে জানান তিনি। দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই গণজমায়েতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম বিভাগীয় গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর দুইটায় সিলেটের বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট এলাকায়। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও একই ধরনের গণজমায়েত আয়োজন করা হবে।

সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীরা একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। সামাজিক, প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারী রাজনীতির অবসানই ছিল সেই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা একটি ন্যায়ভিত্তিক নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর দিকনির্দেশনা দিয়েছে। তবে, কিছু রাজনৈতিক দলের ভিন্নমতের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতানৈক্য তৈরি হয়েছে।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করার মাধ্যমেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর অবসান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, চাকসুর জিএস সাইদ বিন হাবিব, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বিরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতারা।

ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়