বেতন সংকটে নগর স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প, সিটি করপোরেশন ঘেরাও
রাজশাহী সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
বকেয়া বেতনের দাবিতে নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের স্বাস্থ্যকর্মীরা বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের অভিযোগ, টানা সাত মাস ধরে কোনো বেতন না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটকের সামনে শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, সাত মাসের বকেয়া বেতনের পরিবর্তে তাদের মাত্র তিন মাসের বেতন দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত মাসিক বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হলেও তা কমিয়ে মাত্র ৯ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এসব তথ্য জানিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও সহযোগী সংস্থার যৌথ বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি’ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে নগরীর স্বল্প-আয়ের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। প্রকল্পটির আওতায় মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান সহায়তা, পরিবার পরিকল্পনা, সাধারণ বহির্বিভাগ চিকিৎসা, গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর সেবা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আনজুমান আরা বেগম কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব নয়ন কুমার সাহা বলেন, “প্রকল্পটির মেয়াদ গত বছরের জুনে শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি চলমান রয়েছে। হঠাৎ করে নগরীর স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ না করতেই অনেক কর্মী এখনো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।”
তিনি জানান, প্রকল্পটি সিটি করপোরেশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অংশীদার এনজিওগুলোর যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মীদের আর্থিক দাবির বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুতই কিছু সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ঢাকা/মাহী/জান্নাত