ঢাকা     সোমবার   ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৯ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

সিলেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, নারী ভোটে নজর জামায়াতের

মোসাইদ রাহাত, সিলেট || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৪৯, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১১:৪৫, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সিলেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, নারী ভোটে নজর জামায়াতের

সিলেট-১ আসনে নির্বাচনি প্রচারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী হাবিবুর রহমান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটের ১৯টি আসনের প্রার্থীরা এখন প্রচারে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় তাদের ভোটারও নীরব। আওয়ামী লীগের এই ভোট ব্যাংক টানতে মরিয়া বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগের ভোট প্রার্থী ভেদে ভাগাভাগি হতে পারে। 

সিলেটের এবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীদের মধ্যে। এখন পর্যন্ত কয়েকটি আসনে বিএনপি ও কয়েকটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও কিছু আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস রয়েছে। এই আসনগুলোতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট বড় সহায়ক হয়ে দাঁড়াবে। তবে, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন কী না সেটা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

আরো পড়ুন:

সিলেট অঞ্চল আওয়ামী লীগের ভোটগুলো বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ভাগাভাগি হবে বলে মনে করছেন ভোটার ও প্রার্থীরা। এমনকি মাঠে থাকা বড় দুই রাজনৈতিক দলও এমনটা ভাবছে।

অন্যদিকে, নির্বাচনি আসনগুলোতে নারী প্রতিনিধিত্ব তৈরি করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক ও সমাবেশ করছেন জামায়াত ইসলামীর সমর্থকরা। তাদের মতে, এবার ভোটে জামায়াতের বিপ্লব ঘটাবেন নারী ভোটাররা।

সিলেট-১ আসনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াত ইসলামীর একজন নারী সমর্থক বলেন, “এবার সবাই পরিবর্তন চায়, আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদের মনের ইচ্ছা বুঝার চেষ্টা করছি। সিলেট ধর্মীয় অঞ্চল, নারীরা চান ইসলামী শাসন। তাই বলা যায়, ভোট যেমন হোক জামায়াতের ইসলামীর জয়ে নীরব বিপ্লব হিসেবে থাকবেন নারী ভোটাররা।”

সিলেট-১ আসনে নির্বাচনি প্রচারে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার জামায়াতে ইসলামের এক নারী কর্মী বলেন, “সিলেটের নারীদের বড় অংশ কিন্তু গৃহিনী। তারা বেশি বাইরে বের হন না, সংসার আগলে রাখেন। আমরা মূলত তাদের কাছেই যাচ্ছি, কারণ বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে ভোট হয়নি এই মানুষগুলোর ভোট দেওয়ার ইচ্ছেই মরে গিয়েছে।  তাই আমরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি, মা-বোনদের বুঝাচ্ছি আপনার ভোট কেন আমাদের প্রয়োজন। পাশাপাশি আমরা গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট দিতেও তাদের বলছি।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের ভোটার তুলনা আক্তার বলেন, “অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেউ আমার বাসায় না আসলেও জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষের নারী কর্মীরা আমাদের বাসায় এসেছিলেন। তারা আমাদের বুঝিয়ে যাচ্ছেন কেন এবার জামায়াতকে জয়ী করা প্রয়োজন। তারা আমাদের নানা রকমের আশ্বাস দিচ্ছেন। পরিবর্তনের বাংলাদেশে নারীরা অনেক সম্মান পাবেন এসব কথাবার্তা এসে তারা বলছেন।”

সুনামগঞ্জ মহিলা পরিষদের সদস্য তৃণা দে বলেন, “এবার ভোট ভিন্ন রকমের চিন্তাধারায় হবে, বিশেষ করে একটি দলের সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা নারী ভোটারদের ধর্মীয় বিশ্বাসটাকে কাজে লাগিয়ে আবেগ দিয়ে ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুনামগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন বলেন, “আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকলেও সমর্থকরা রয়েছেন। তারা এবার ভোট দেবেন কি না এটা আমি জানি না। তবে, এই ভোটব্যাংক বিএনপি এবং জামায়াত ভাগাভাগি করে নেওয়ার চেষ্টা করবে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের আকর্ষণ বাড়াতে নানা রকমের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা। তাই আমরা ধারণা করছি, এবারের আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নির্দিষ্ট কোনো দলের নয়। যারা আলোচনায় আছে তারাই ভাগাভাগি করে পাবেন।”

জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগর নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, “নারী ভোটারদের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। আমাদের নারী প্রতিনিধিরাও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। আমাদের প্রতিপক্ষরা তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করে যাচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি, পুরুষ ভোটারের চাইতে নারী ভোটার আমরা বেশিই পাব।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের ব্যাপারে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য- হাসিনা রেজিমের সঙ্গে যারা হামলা, খুন ও তাদের দোসর হিসেবে ছিলেন তাদের বিচার হতে হবে। আমরা এটাও বলেছি- যারা নিরীহ, রাষ্ট্রের অন্য নাগরিকদের যেসব সুবিধা-অধিকার রয়েছে তাদের বেলাও একই চিন্তাধারা রাখতে।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, “আমরা কোনো দলের ভোট নিয়ে আসার জন্য কাজ করছি না। আমরা নারী-পুরুদের আলাদা করে দেখছি না। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল সারাদেশে ধানের জোয়ার চলছে।”

তিনি বলেন, “আমরা কোনো ভেদাভেদ করছি না। আমাদের বিশ্বাস, সবার আস্থাকে কাজে লাগিয়েই আমরা এবার নির্বাচনে জয় ঘরে তুলব।”

সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৯১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৬ জন। সিলেট জেলায় ভোটার ৩১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৬। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৯৭০ এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪০৮। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৮। সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ২ হাজার ৬৪১টি ভোটকেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়