ইউক্রেনে যাত্রীবাহী বাসে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ১২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ইউক্রেনে একটি যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে’র বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ডিটিইকে জানায়, রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) পূর্ব ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলে শ্রমিকবাহী একটি বাসকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগের তথ্যানুসারে, এই ঘটনায় আরো অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে, শনিবার রাত এবং রবিবার দিনের অন্যান্য রুশ হামলায় অন্তত আরো দুজন জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে জাপোরিঝিয়া শহরে একটি প্রসূতি হাসপাতালে ড্রোন হামলায় ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজন নারী ছিলেন যারা হামলার সময় সন্তান জন্ম দিচ্ছিলেন।
জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের প্রধান ইভান ফেদোরভ টেলিগ্রামে এক পোস্টে এই ঘটনাকে ‘জীবনের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের আরো একটি প্রমাণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, হাসপাতালের অফিস কক্ষ, রোগীদের বিছানা এবং শিশুদের কক্ষের জানালা ভেঙে চুরমার হয়ে ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গেছে। কোনো কোনো ভিডিওতে হাসপাতালের প্রথম তলায় আগুন জ্বলতে এবং দমকল কর্মীদের রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার মতে, হাসপাতালের ওপর এই হামলা প্রমাণ করে যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি প্রচেষ্টার বিপরীতে ‘বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানুয়ারি মাস থেকে মস্কো ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে। এতে করে তীব্র শীতের মধ্যে (যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার পূর্বাভাস রয়েছে) অসংখ্য মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, পুতিন তীব্র শীতের এই সময়ে হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছেন। তবে ক্রেমলিন পরবর্তীতে জানায় যে, এই বিরতির মেয়াদ রবিবার শেষ হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইউক্রেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দ্বিতীয় ধাপ আগামী বুধবার আবুধাবিতে শুরু হবে। এই আলোচনা রবিবার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কেন পিছিয়ে গেছে তার কোনো কারণ জানানো হয়নি।
শান্তি আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অধিকৃত ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দখল করে আছে। মস্কো চায় দনবাস অঞ্চলের বাকি অংশও তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হোক, অন্যদিকে ইউক্রেন চায় জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে।
ঢাকা/ফিরোজ