বাছাইপর্বে সব ম্যাচ জিতে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ
বিশ্বকাপের টিকিট আগেই নিশ্চিত ছিল। তবু শেষ ম্যাচেও জয়ের ক্ষুধা কমেনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের। আজ রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) নেপালের আপার মুলপানিতে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বের শেষ লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল সাত ম্যাচে সাত জয়ের নিখুঁত রেকর্ড নিয়ে।
ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১০২ রান। জবাবে ১৬.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০৫ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বোলারদের শুরুর দাপটে এক সময় ধসে পড়ার শঙ্কায় ছিল ইউরোপীয় দলটি। ইনিংসের গোড়াতেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে তারা চাপে পড়ে যায়। বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার ছিলেন সেই চাপের মূল কারণ। চার ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে নেন তিনি। মারুফা আক্তার ও রাবেয়া খানও শুরুতে আঘাত হেনে নেদারল্যান্ডসকে ২৩ রানের মধ্যেই পাঁচ উইকেট হারাতে বাধ্য করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ষষ্ঠ উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন রবিন রাইকি ও সানিয়া খুরানা। এই জুটিতেই আসে নেদারল্যান্ডসের বড় অংশের রান। রাইকি ৩৯ রান করে ফিরলেও খুরানা অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে। তবে তাদের ১০২ রানের সংগ্রহ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেনি।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না বাংলাদেশের। মাত্র ছয় রানের মধ্যেই দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়। কিন্তু অধিনায়ক নিগার সুলতানা আবারও প্রমাণ করেন কেন তিনি দলের ভরসার নাম।
তৃতীয় উইকেটে শারমিন আক্তারের সঙ্গে ধীরে সুস্থে ইনিংস গুছিয়ে নেন নিগার। শারমিন বিদায় নেওয়ার পর সোবহানা মোস্তারিকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটের জুটিতে মাত্র ৩৭ বলেই আসে ৫৭ রান।
নিগার ৭টি চারে সাজানো ৪৪ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি ছিল তার দশম অর্ধশতক। অন্য প্রান্তে সোবহানা মোস্তারি ২৩ বলে ৩৩ রান করে ম্যাচ শেষ করে আসেন। যেখানে ছিল চার ও ছক্কার দারুণ মিশেল।
২০ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়ায় ম্যাচের উত্তেজনা আর শেষ দিকে যায়নি। শেষ পর্যন্ত ১৬.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে যাত্রা শেষ করল বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডস পাঁচ জয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও বিশ্বকাপের মূল পর্বে তাদের সঙ্গী হচ্ছে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। আগামী জুনে ইংল্যান্ডে যেখানে বসবে বড় মঞ্চের লড়াই।
নিখুঁত রেকর্ড, অধিনায়কের ধারাবাহিকতা আর বোলিং আক্রমণের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স; সব মিলিয়ে বাছাইপর্ব শেষে বাংলাদেশ নারী দল বিশ্বকাপের মূল পর্বে পা রাখছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়েই।
ঢাকা/আমিনুল