‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ হবে জাতি কোন পথে যাবে’
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
রবিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট প্রচারের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, ওই দিনটি কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এখান থেকেই নির্ধারিত হবে জাতি কোন পথে অগ্রসর হবে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই জাতীয় সনদকে বাংলাদেশের মানুষের রক্তে লেখা দলিল আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আপনাদের কাছে যে জুলাই জাতীয় সনদের কপি পৌঁছেছে, তা কালো কালিতে ছাপা। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর রক্ত দিয়ে লেখা।”
তিনি বলেন, “প্রশ্নটি খুবই সহজ—প্রাণের বিনিময়ে তৈরি এই জুলাই সনদের সঙ্গে জনগণ আছে কি না, সেটিই গণভোটে নির্ধারিত হবে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে একত্রিত হয়ে একটি সম্ভাবনাময়, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে বিচারব্যবস্থার কাছে জনগণ পৌঁছাতে পারে না, তার কাছ থেকে ন্যায়বিচার আশা করা যায় না। ৫৪ বছরে বাংলাদেশের মানুষ ঘরের দরজায় বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি। এই কাঠামোগত সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “এসব সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য এমন একটি জাতীয় সংসদ প্রয়োজন, যার সংবিধান সংশোধনের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। সে কারণেই আসন্ন জাতীয় সংসদ একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কারের পরিসর হিসেবে কাজ করবে। জনগণ গণভোটের মাধ্যমে যদি এই দায়িত্ব তাদের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেয়, তবে তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না।”
জুলাই জাতীয় সনদে উত্থাপিত সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি বিষয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এগুলো পরস্পর সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়। এসব বিষয়কে চারটি প্রধান কাঠামোয় উপস্থাপন করে একটি মাত্র প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের উদ্যোগ।”
কিছু অপপ্রচারের জবাবে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ অপসারণ বা মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকারের কোনো বিষয় নেই। বরং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি সংযুক্ত করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি বহুধর্মী, বহুভাষী ও বহুজাতিগোষ্ঠীর দেশ। সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই এই সনদের লক্ষ্য।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ে যারা প্রাণ দিয়ে এই সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন, তারা জাতির ওপর এক গুরুদায়িত্ব অর্পণ করে গেছেন। সেই দায়িত্ব যেন অবহেলায় নষ্ট না হয়। ”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান ও শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।
ঢাকা/ইকবাল/ইভা