আমির আমার শোবার ঘরেই পোশাক বদলাত: মমতা
নব্বই দশকের লাস্যময়ী ও সাহসী অভিনেত্রী মমতা কুলকার্নি। অক্ষয় কুমার, আমির খান, সালমান খান, গোবিন্দ, সঞ্জয় দত্তের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে জুটি বেঁধে পর্দায় ঝড় তুলেছেন। গত বছর আলো ঝলমলে দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে সন্ন্যাসিনী হন এই অভিনেত্রী।
অস্কারজয়ী সুরকার এ. আর. রহমানকে নিয়ে ভারতে চর্চা চলছে। কিছুদিন আগে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ শিল্পী বলেন—“বলিউডে সাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।” এই মন্তব্য তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। এ.আর. রহমানকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নব্বই দশকে চলচ্চিত্র জগতের সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন মমতা কুলকার্নি। তার শোবার ঘরে আমির খান পোশাক বদলাতেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মমতা কুলকার্নি বলেন, “আমি নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবান মনে করি। কারণ আমি নব্বই দশকে কাজ করেছি। বিশ্বাস করুন, আমরা কখনো এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবিনি। আমি আমির খানের সঙ্গে কাজ করেছি, শাহরুখ খানের সঙ্গেও কাজ করেছি; আমরা কখনো একে অপরের ধর্মের দিকে তাকাইনি। সত্যি বলতে এখন আমি আর কী বলব?”
সেই সময়ের কাজের পরিবেশ সম্পর্কেও জানান মমতা। শুটিং সেটে ভ্যানিটি ভ্যান ছিল না। উদাহরণ টেনে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমির খান আমার বাড়িতে আসত। আমরা যখন ‘বাজি’ সিনেমার শুটিং করছিলাম, তখন সে আমার বাড়িতে এসে বসত। অনেক সময় শুটিং চলাকালীন সে আমার শোবার ঘরে গিয়ে পোশাক বদলাত। কারণ তখন ভ্যানিটি ভ্যান ছিল না। এমন নয় যে, ‘ভ্যান আছে, সেখানে গিয়ে আমরা পোশাক বদলাব’। লোখন্ডওয়ালায় শুটিং থাকলে আমির সরাসরি আমার বাড়িতে চলে আসত এবং আমার শোবার ঘরেই পোশাক বদলাত।”
নব্বই দশকে কাজের পরিবেশটা একেবারেই আলাদা ছিল। মমতার ভাষায়—“আমরা একে অপরের বাড়িতে যেতাম, সেখানেই তৈরি হতাম, তারপর সরাসরি শুটিং সেটে চলে যেতাম। ‘বাজি’ সিনেমার শুটিংয়ের সময়, প্যাক-আপের পরও আমির খান আর আমি সরাসরি আমার বাড়িতে চলে আসতাম, আর সে আমার রান্নাঘরে গিয়ে চা বানাত।”
আমির-শাহরুখ খানের সঙ্গে বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে মমতা কুলকার্নি বলেন, “আমির খান ও শাহরুখ খানের সঙ্গে যখন ওয়ার্ল্ড ট্যুরে যেতাম, তখন আমরা একে অপরের বাড়িতে গিয়ে বসতাম। কেউ চা বানাত, কেউ রান্না করত। আমরা কখনো এসব নিয়ে ভাবিনি। কিন্তু এখন সত্যিই সবকিছু বদলে গেছে, সব বন্ধ হয়ে গেছে। একজন শিল্পী মানে একজন শিল্পী। দয়া করে এখানে ভেদাভেদ আনবেন না।”
সংগীত জগতের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন মমতা কুলকার্নি। সুরকার এ.আর. রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনি যখন এ.আর. রহমানের কথা জিজ্ঞেস করেন, তখন বলব—সবকিছুরই একটা সময় থাকে। সম্ভবত, আপনার ধরণের সংগীত এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। এখন খুব ভালো গায়ক-গায়িকাও কাজ পাচ্ছেন না, তারা বাড়িতে বসে আছেন।”
১৯৯২ সালে রাজ কুমার ও নানা পাটেকরের ‘তিরঙ্গা’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন মমতা কুলকার্নি। নব্বই দশকে ‘করণ অর্জুন’, ‘ওয়াক্ত হামারা হ্যায়’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘সাবছে বড় খিলাড়ি’-এর মতো হিট সিনেমার নায়িকা তিনি।
ঢাকা/শান্ত