১৫ বছরে শুধু বগুড়া না, সমগ্র বাংলাদেশ বঞ্চিত ছিল: তারেক রহমান
বগুড়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বৃহস্পতিবার বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
১৫ বছর বগুড়াই শুধু বঞ্চিত ছিল না, সমগ্র বাংলাদেশও সত্যিকারভাবে বঞ্চিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, “গত ১৫ বছর দেশের মানুষ চিকিৎসা সুবিধা ঠিকভাবে পায়নি। দেশের কৃষকরা তাদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কলকারখানা কোনো কিছু সঠিকভাবে গড়ে উঠতে দেওয়া হয়নি। শুধু একটি কাজ হয়েছে, তা হলো তথাকথিত মেগা প্রজেক্ট। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা বগুড়াকে যেমন সামনের দিকে নিয়ে যাব, ঠিক একইভাবে আমাদের সমগ্র দেশকে সঙ্গে টেনে নিয়ে যেতে হবে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে নিয়ে যেতে আমাদের অবশ্যই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রবর্তন করতে হবে। এর জন্য ১২ তারিখের নির্বাচনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরো বলেন, “আগামী দিন আল্লাহ রহমত দিলে যেভাবে হোক দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরতে হবে আমাদের। দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমেই আমাদের দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আগামী দিনে আল্লাহ চায় তো আমরা সরকার গঠন করলে শুধু নিজের এলাকার কথা চিন্তা করলে চলবে না, সমগ্র বগুড়াবাসীকে নিজের জেলার সঙ্গে সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করতে হবে। আপনাদের সমগ্র দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে।”
তারেক রহমান বলেন, “বগুড়া ছিল আমার কাছে একটি মডেল জেলার মতো। আমি সবসময় চিন্তা করতাম বাংলাদেশের আরো যে ৬৩টা জেলা আছে সেগুলোকে কীভাবে সাজাবো। একটি জেলার মৌলিক যে প্রয়োজন, সেই মৌলিক প্রয়োজনগুলো ধীরে ধীরে আমরা বগুড়ায় তৈরি করেছিলাম। এই মুহূর্তে কম-বেশি আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারবো, সেদিন আমরা যতটুকুই কাজ আপনাদের সবাকে নিয়ে, আপনাদের সবার সহযোগিতায় ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বগুড়ার সাতটি এলাকায় করতে পেরেছিলাম, বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে আমরা বেশি কাজ করেছিলাম। যেকোনো জেলা থেকে ভালো কাজ করেছিলাম। সেজন্যই আমি এটাকে মডেল জেলা বলে থাকি। এটি আমার নিজের কাছে মডেল। কারণ এই জেলায় একটি মানুষের মোটামুটি যা কিছু প্রয়োজন চলার জন্য, সবকিছু কিন্তু বগুড়া শহরে আছে। খুব বেশি ঢাকা শহর বা অন্য জায়গায় যাওয়ার প্রয়োজন হয় না গুটিকয়েক কাজ ছাড়া। অনেক জেলাই আছে, কিছু হলেই তাদেরকে চলে যেতে হয় ঢাকায়। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে বগুড়ায় আমরা সেই ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি বগুড়া বাসীর উদ্দেশে বলেন, “সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনে দেশের মানুষকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই নির্বাচনটি শুধু নির্বাচনই নয়, এই নির্বাচনটি নিশ্চিত করবে আগামী দিনে এই দেশের মানুষের জবাবদিহিতামূলক সরকার তৈরি হবে কি হবে না। সেজন্যই আজকে বগুড়াবাসীর কাছে আমার আহ্বান থাকবে, অনুরোধ থাকবে যে, এই নির্বাচনটির ব্যাপারে আমাদের অত্যন্ত সিরিয়াস থাকতে হবে। কারণ এই নির্বাচন আমাদেরক দিকনির্দেশনা দেবে আগামী দিনে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে।”
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “এর আগে যখন আমরা কাজগুলা করেছি, তখন এখানে সংসদ সদস্য হিসেবে ছিলেন আম্মা অর্থাৎ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজকে উনি আমাদের মাঝে নেই। আজকে উনার জায়গায় আপনাদের সামনে এসে আমি দাঁড়িয়েছি। আপনারা সুযোগ দিন, ইনশাআল্লাহ যতটুকু সম্ভব, আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করলে যতটুকু সম্ভব সে ব্যাপারে আমার মনে হয় না কারো চিন্তা করার প্রয়োজন আছে।”
বেকারদের চাকরি প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “চাকরিবাকরি অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলা আছে ইনশাআল্লাহ সবকিছু যোগ্যতার ভিত্তিতেই হবে। আমরা নিশ্চয়ই চাইব না যে অন্য কেউ আমাদের কোনো বিতর্কিত অবস্থায় ফেলুক। ‘বগুড়া বলেই সব পাচ্ছে, আমরা বগুড়া না বলে পাচ্ছি না’ আমরা আমাদের বগুড়ার নাম খারাপ করতে চাই না। সেই জন্যই বগুড়ার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই বগুড়া পাবে। তবে, একই সঙ্গে আমরা খেয়াল রাখব আমাদের ন্যায্য অধিকার পেতে গিয়ে অন্যের ন্যায্য অধিকার যাতে আমরা নষ্ট না করি। অন্যের ন্যায্য অধিকার থেকে তাকে যেন বঞ্চিত না করি। এই বিষয়টি আমাদেরকে অত্যন্ত সতর্কভাবে খেয়াল রাখতে হবে।”
তারেক রহমান বলেন, “আজ এই মুহূর্তে আমার আপনাদের কিচ্ছু দেবার নেই। আজ এই মুহূর্তে আপনাদের কাছে শুধু আমার চাইবার আছে। ঘরের মানুষ, এই যে আমি এত রাত্রে যে মিটিং করছি, এই যে রাজনীতি করছি, এই যে কাজগুলো করছি, আমার স্ত্রী যদি আমাকে সহযোগিতা না করতেন আমি কিন্তু পারতাম না। উনার সহযোগিতা আছে বলেই আমি পেরেছি। ঠিক একইভাবে আপনারা বগুড়ার মানুষ যদি আমার পাশে থাকেন, আমাকে যদি মানসিকভাবে শক্তি-সমর্থন আপনারা দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে আগামী দিনে একটা সুন্দর ও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব।”
তিনি বলেন, “আপনাদেরই আরেক সন্তান সবসময় একটি কথা বলতেন, তার নাম হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। উনি বলতেন, দেশকে গড়তে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আমরা কাজ না করলে আমাদের দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারব না। কাজেই উনার কথার সঙ্গে মিল রেখে আমি একটা কথা বলি সবসময়, প্রত্যেক জায়গায় বলে এসেছি, সেই কথাটি হচ্ছে: ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।”
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহী ও নওগাঁর জনসভা শেষে বগুড়ায় পৌছান রাত পৌনে ৯টায়। রাস্তায় রাস্তায় তারেক রহমানকে দেখতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ের কারণে তার জনসভাস্থলে পৌছাতে ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। জনসভায় তিনি ১৩ মিনিটের মতো বক্তৃতা করেন।
ঢাকা/এনাম/মাসুদ